অর্থনীতি প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয়ে ধস নামল মার্কিন শেয়ারবাজারে। ডাউ জোন্সের তথ্যমতে, প্রযুক্তি-নির্ভর নাসডাক সূচক কমেছে ৫.5%। ধাক্কা লেগেছে এশিয়ার বাজারেও। পড়ুন বিস্তারিত।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির পেছনে বৈশ্বিক টেক জায়ান্টদের বিপুল অর্থ লগ্নি শেষ পর্যন্ত কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে বড় ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। আর এই ‘এআই আতঙ্ক’ থেকেই আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে শুরু হয়েছে ব্যাপক শেয়ার বিক্রির ধুম। যার সরাসরি প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে এসেছে। একদিনের ব্যবধানে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সূচকগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার।
নাসডাকে বড় আঘাত, উধাও বিপুল পুঁজি
ডাউ জোন্সের সর্বশেষ বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের প্রধান নির্দেশক ‘নাসডাক কম্পোজিট সূচক’ (Nasdaq Composite) ৫.৫ শতাংশেরও বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে। এই নজিরবিহীন পতনের ফলে মুহূর্তের মধ্যেই বাজার মূলধন থেকে প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার স্রেফ হাওয়া হয়ে গেছে। প্রযুক্তি খাতের বড় বড় কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় পুরো ওয়াল স্ট্রিটে এক ধরণের আতঙ্ক ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যান্য প্রধান সূচকেও লাল সংকেত
ধসের এই ঢেউ শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নাসডাকের পাশাপাশি আমেরিকার অন্যান্য প্রধান প্রধান শেয়ার সূচকগুলোতেও বড় ধরনের দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। ডাউ জোন্স আন্দোলন বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপে ব্যাপকভাবে নিচে নেমে গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিমূল্যায়িত টেক স্টকগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা তড়িঘড়ি করে তাদের পুঁজি তুলে নেওয়ার কারণেই এই সামগ্রিক ধস।
বিনিয়োগকারীদের ‘এআই’ আতঙ্ক
গত দুই বছর ধরে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যে জয়জয়কার চলছিল, সেখানে এখন বড় একটি প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার নির্মাণে শত শত কোটি ডলার ঢাললেও, সেই তুলনায় কাঙ্ক্ষিত মুনাফা বা রিটার্ন ঘরে তুলতে পারছে না। এই বিপুল পরিমাণ ব্যয় আদৌ কোনো বাস্তব লাভ বয়ে আনবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে তারা নিরাপদ অবস্থানে যেতে চাইছেন, যার ফলশ্রুতি এই গণ-শেয়ার বিক্রির হিড়িক।
এশিয়ার বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব
আজ শুক্রবার সকালে মার্কিন বাজারের এই মহাধসের ধাক্কা এসে লেগেছে পূর্ব গোলার্ধের তথা এশিয়ার পুঁজিবাজারেও। লেনদেনের শুরুতেই এশিয়ান অঞ্চলের প্রযুক্তি-নির্ভর সূচক ও সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা গেছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রধান সূচকগুলোও আজ লাল সংকেত দিয়ে লেনদেন পার করছে, যা বৈশ্বিক মন্দার একটি স্পষ্ট আভাস বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


