রাজনীতি

সাতক্ষীরায় হত্যায় আব্বাসীর ‘আলহামদুলিল্লাহ’, সাংবাদিকদের পেটাইয়ের হুমকি | দৈনিক পূর্বাচল

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক পূর্বাচল

ঢাকা: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সাতক্ষীরায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ ও প্রধান আসামির মুক্তি দাবি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। শুধু তাই নয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অভিযানের খবর প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের ‘কুত্তার মতো পিটানোর’ হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

সাতক্ষীরায় হত্যায় সন্তোষ ও আসামির মুক্তি দাবি

গত ১৩ অক্টোবর সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে দুই দফায় বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসাপাতাল থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হলেও, তার সাফাই গেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য দেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। ‘মুসান্না আল ফাইয়াজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে প্রচারিত ভিডিওতে তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে স্বাগত জানান। একইসঙ্গে প্রধান আসামি আমিনীকে ‘মর্দে মুজাহিদ’ আখ্যা দিয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং দেশে প্রচলিত আইনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন।

সাংবাদিকদের ‘কুত্তার মতো পিটানোর’ হুমকি ও সাফাই

এদিকে, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের গেন্ডারিয়ায় পিস্তল উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের খবর গণমাধ্যমে আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্বাসী। গত ২০ অক্টোবর ‘Abbasi Monjil Joinpur’ ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি সাংবাদিকদের ওপর সহিংস হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, “এগুলোকে কুত্তার মতো পিটানো দরকার।”

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ও বিদেশি সংস্থার এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ তোলেন তিনি। ওই ভিডিও ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে পরদিন (২১ অক্টোবর) নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে আব্বাসী দাবি করেন, তিনি কেবল ‘হলুদ সাংবাদিকদের’ উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেছেন। ইশরাককে পদত্যাগে বাধ্য করার পেছনে তিনি সাংবাদিকদের নেতিবাচক প্রচারণাকেই দায়ী করেন।

আইন হাতে তুলে নেওয়া ও অতীতেও বিতর্কের রেকর্ড

এটিই প্রথম নয়; এর আগে ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক সমাবেশে মহানবী (সা.)-এর অবমাননাকারীদের ‘কল্লা কেটে দেওয়া’ ও নিজ হাতে শাস্তি কার্যকরের হুঙ্কার দিয়েছিলেন আব্বাসী। সে সময় প্রকাশ্যে হত্যার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে দেশের ২২৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়ে তার বিচারের দাবি জানিয়েছিলেন।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment