নিজস্ব প্রতিবেদক/দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা | ২ অক্টোবর ২০২৬
গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে ডুবতে থাকা একটি কাঠের বোট থেকে ৭৬ জন মালয়েেশিয়াগামী যাত্রীকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধারকৃতদের মধ্য থেকে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সেন্ট মার্টিন লাইট হাউস থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ এই অভিযান পরিচালনা করে।
যেভাবে উদ্ধার হলো যাত্রীরা
নৌবাহিনীর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার সময় ওই এলাকায় ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’ নামের একটি মাছ ধরার বোটের জেলেরা ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় সমুদ্রে ভাসতে থাকা কাঠের বোটটি দেখতে পান। বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নৌবাহিনীকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ। সে সময় বোটটিতে পানি ঢুকছিল এবং যাত্রীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে ছিল। নৌসদস্যরা দ্রুত বোট থেকে পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ৭৬ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
মানবপাচার চক্রের অভিনব কৌশল
নৌবাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশকে মানবপাচারকারী চক্র টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে তাদের অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েেশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। অবৈধ যাত্রী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ওই বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি প্রবেশ করায় বড় ধরনের বিপদের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নৌবাহিনীর সময়োপযোগী পদক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আটক ১১ জন মানবপাচারকারী এবং জব্দকৃত বোটটি পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নৌবাহিনী জানিয়েছে, মানবপাচার, চোরাচালানসহ সমুদ্রে যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাদের নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


