নিজস্ব প্রতিবেদক | পূর্বাচল:
ফেনীর পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
বন্যার স্থায়ী কবল থেকে ফেনীর পরশুরামবাসীকে রক্ষা করতে নির্মিত মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের চরম দুর্ভোগ ও আশঙ্কার অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর ২০২৬) বেলা পৌনে ৩টার দিকে পরশুরামের মির্জানগর ইউনিয়নের ঘাটঘর স্টিল ব্রিজ এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বন্যায় ফেনীর পরশুরামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্ট করেছেন। এবার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কারণে সেই কষ্টের অবসান হবে।” বৃহত্তর নোয়াখালীর লাখ লাখ মানুষকে বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতেই সরকার এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।
নানাবাড়ির স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানে নিজের নানাবাড়ি এলাকার শৈশব ও স্মৃতির রোমন্থন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বহু বছর পর নানাবাড়িতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি জানান, তিনি প্রথম এখানে এসেছিলেন ১৯৮৪ সালে এবং পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে। ১৯৯১ সালের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সে সময় তার মা (বেগম খালেদা জিয়া) নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় এই এলাকায় এসেছিলেন। তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় বর্তমানের মতো এই উন্নত সড়কটি ছিল না, তখন তারা মির্জানগর বিডিআর ক্যাম্প পর্যন্ত গিয়েছিলেন।
জনকল্যাণে সরকারের অঙ্গীকার
জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে বর্তমান সরকার নানামুখী যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যা দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেবের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। স্থানীয় জনগণের মাঝে এই বাঁধ উদ্বোধনের ফলে ব্যাপক স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।


