রাজনীতি

পুলিশে এখনো সক্রিয় পতিত সরকারের দোসররা: ২ শতাধিক সদস্যের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পূর্বাচল:

৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে থেকে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পলাতক ও চাকরিচ্যুত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বাহিনীর স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগে দুই শতাধিক পুলিশ সদস্যকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, এই চক্রের একটি বড় অংশ অতীতে পলাতক কর্মকর্তাদের বডিগার্ড, গাড়িচালক বা অর্ডারলি হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তারা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইউনিটে বহাল থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে পলাতক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

স্পর্শকাতর ইউনিটে এখনো বহাল প্রভাবশালীরা

পুলিশ সদর দপ্তর, ডিবি, এসবি, সিআইডি, এপিবিএন এবং র‍্যাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতে এখনও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের আস্থাভাজনরা পদায়ন পেয়ে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ এবং যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের ঘনিষ্ঠরা এই নেটওয়ার্কের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—

  • রেজাউল করিম (ডিআইজি অপারেশন): শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকলেও ৫ আগস্টের পর তিনি পদোন্নতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে আসীন হন।

  • মাহফুজুর রহমান দিপু ও সাইফুল: মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তারা বর্তমানে যথাক্রমে এপিবিএন এবং সারদায় এসপি (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • ইশতিয়াকুর রশীদ (এলআইসি শাখা): প্রায় ১৪ বছর পুলিশ সদর দপ্তরে অবস্থান করে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন ব্যক্তির ফোন কল ট্র্যাকিংয়ের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

  • এছাড়া রাহুল পাটোয়ারী, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং জোনায়েদের মতো কর্মকর্তারাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বদলি ঠেকাতে প্রভাবশালী মহলের তদবির

পলাতক সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে—এমন অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্যের বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি এবং প্রভাবশালী মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তদবির করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তদবির রক্ষা না হলে দেশ ও দেশের বাইরে অবস্থানরত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাক্টিভিস্টদের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোরও অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনিক কঠোর পদক্ষেপের হুশিয়ারি

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদত হোসাইন জানান, কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যালোচনা চলছে। পাশাপাশি কর্মরতদের মধ্যে যারা চাকরিবিধি লঙ্ঘন করছেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাহিনীর ভেতর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চিহ্নিত সিন্ডিকেটটির বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment