আন্তর্জাতিক

মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা জারি করে সৌদির প্রত্যাহার, হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য হামলার একটি বিরল সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরব। তবে সতর্কতা জারির অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কায় এমন সতর্কতা জারির ঘটনা এটিই প্রথম।

মক্কার পাশাপাশি বন্দরনগরী জেদ্দা এবং ঐতিহাসিক তাইফ শহরেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টাপাল্টি হুংকার

গত কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবের বিভিন্ন ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র করেছে হুথিরা। এর অংশ হিসেবে সোমবার ইয়েমেন থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে চালানো এক হামলায় ১৩ জন সাধারণ নাগরিক আহত হন। এর জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা বিমান হামলা শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, গত পাঁচ দিনে তাদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে তিন শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। গোষ্ঠীটি এক টেলিগ্রাম বিবৃতিতে জানায়, এসব হামলায় আধুনিক এফ-১৫ ও ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। সৌদি আরব হামলা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তোলার হুমকি দিয়েছে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি।

কৌশলগত ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুথিদের

সৌদি জোটের বিমান হামলার জবাবে খামিস মুশাইতের ‘বাদশাহ খালিদ বিমানঘাঁটি’তে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে হুথিরা। তাদের দাবি, এই হামলায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যার লক্ষ্য ছিল বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে এবং অস্ত্রভাণ্ডার।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের শঙ্কা

গত দুই সপ্তাহ ধরে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যকার চলমান সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় পুরো অঞ্চলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে হুথিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে হুথিদের দমনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক এই উত্তেজনায় আবারও নতুন সংকটের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment