বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল
টঙ্গী (গাজীপুর): ১৪ আগস্ট ২০২৬
গাজীপুরের টঙ্গীর রাজনৈতিক অঙ্গনের এক সুপরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম নুরুল ইসলাম সরকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এবং টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী ‘সরকার’ পরিবারের সন্তান তিনি। সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম সরকার ২০০৪ সাল থেকে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কারাবন্দী জীবন অতিবাহিত করছেন। তৎকালীন আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় তাকে জড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ‘মিথ্যা মামলা’র অভিযোগ তুলে বর্তমানে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছেন টঙ্গীর সর্বস্তরের মানুষ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মামলার নেপথ্য ও বিচারিক বিতর্ক
২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তৎকালীন সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার। পরদিন নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে টঙ্গী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল আদালত নুরুল ইসলাম সরকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রায় দেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্টেও সেই রায় বহাল থাকে।
তবে মামলার শুরু থেকেই নুরুল ইসলাম সরকারের পরিবার ও স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাব বিস্তার করতে ও ঐতিহ্যবাহী ‘সরকার’ পরিবারকে কোণঠাসা করতেই পরিকল্পিতভাবে তাকে এই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন ও সময়ে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং এ হত্যাকাণ্ডের সাথে তার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না।
বিএনপির অবস্থান ও আইনি লড়াই
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুরু থেকেই এই মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির এক চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখে আসছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার দোহাই দিয়ে তাকে দুই দশকেরও বেশি সময় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
টঙ্গী থানা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, “নুরুল ইসলাম সরকার শুধুমাত্র একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি একাধারে জননেতা ও যুব সমাজের আইকন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নুরুল ইসলাম সরকার। তাকে চক্রান্ত করে বন্দী রাখা মানে টঙ্গীর আপামর জনমানুষের অধিকারকে বন্দি রাখা। আমরা উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও গণদাবি
দীর্ঘ ২২ বছরের কারাবাস এবং সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে টঙ্গীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরকালেও নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে স্বতঃস্ফূর্ত মানবপ্রাচীর ও প্রতিবাদ সভা পালন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দীর্ঘ বন্দীদশা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মানবাধিকার ও সঠিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই বহুল আলোচিত মামলার নিরপেক্ষ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া আবশ্যক।
পরিবার ও অনুসারীদের প্রত্যাশা
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের সাজার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে চূড়ান্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে নুরুল ইসলাম সরকারের পরিবার। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে পিতৃতুল্য অভিভাবককে কাছে না পেয়ে পরিবারটি চরম উৎকণ্ঠা ও মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অনুসারীদের বিশ্বাস, পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে সরকার এবং বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবেন। টঙ্গীবাসীর আশা, সকল ষড়যন্ত্র কাটিয়ে আবারো তাদের প্রিয় নেতা মুক্ত বাতাসে ফিরে আসবেন।


