রাজনীতি

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধি: থানাভিত্তিক নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরিতে পুলিশ

দৈনিক পূর্বাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা ও নাশকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক নেতাদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নেতাকর্মীদের খুঁজে বের করা, অবস্থান শনাক্ত করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে কখনো ভোরে, আবার কখনো দিনের বেলা ঝটিকা মিছিল করে পালিয়ে যাচ্ছেন নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা। মাঝে মাঝে শক্তি ও উপস্থিতি জানান দিতে বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটছে। গ্রেফতার এড়াতে বর্তমানে তারা জুম বা হোয়াটসঅ্যাপের পরিবর্তে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে টেলিগ্রামে গোপনীয় বৈঠক করছেন বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

তথ্য ফাঁসের শঙ্কা ও সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন

প্রশাসনের ধারণা, এখনো প্রশাসনে বিগত সরকারের আমলের আস্থাভাজন কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বহাল থাকায় অনেক গোপনীয় তথ্য ও অভিযানের খবর আগেভাগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে দেশের প্রতিটি থানাকে এলাকাভিত্তিক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরির কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ক্রাইম অ্যান্ড অপস বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি সায়েদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, “যারা সন্ত্রাস করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পুলিশ বেকায়দায় পড়বে। ফলে তালিকা করা হচ্ছে। এটি নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই করা হয় এবং তালিকা তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।”

তালিকায় থাকছে যেসব তথ্য

থানা পুলিশ, ডিবি এবং মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দাদের যৌথ উদ্যোগে এই তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রস্তুতকৃত এই তালিকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতার নাম, পদবি, বর্তমান ও স্থায়ী বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর, টেলিগ্রাম ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি কোন কোন শীর্ষ নেতা দেশ বা বিদেশ থেকে গোপন সুতায় গুটি চালছেন, তা খতিয়ে দেখতে মাঠে কাজ করছে বিশেষ গোয়েন্দা টিম।

ছদ্মবেশে রাজধানীতে তৎপরতা

গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন, আত্মগোপনে থাকা অনেক নেতা গ্রাম ছেড়ে বর্তমানে রাজধানীতে অবস্থান করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিতে ছদ্মবেশে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি ঢাকায় বাইরের জেলার মোটরসাইকেলের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কোন কোন রুটে কারা এসব যান চালাচ্ছেন এবং তারা ঝটিকা মিছিলে অংশ নিচ্ছেন কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গত কিছুদিন আগে রাজধানীর গুলশানে সংঘটিত একটি ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মিছিল শুরুর মাত্র ১০ মিনিট আগে তথ্য পাওয়া গেলেও আকস্মিক এই ঘটনায় দ্রুত পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি। এই ধরনের আকস্মিক নাশকতা ও ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধে এবার দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক তালিকা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই সাঁড়াশি অভিযানে নামবে পুলিশ।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment