সন্ধান মেলেনি নাহিদা বৃষ্টির, লিমনের দেহের কয়েক টুকরা উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে নাহিদা বৃষ্টির সন্ধান এখনও মেলেনি। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার এই শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার খোঁজে ফ্লোরিডার নিরাপত্তা বাহিনী সর্বাত্মক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের ২৭ বছর বয়সী এই মেধাবী শিক্ষার্থীর অবস্থান জানতে বা তিনি জীবিত না মৃত—সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নাহিদাকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় কমিউনিটির সবার সহযোগিতা প্রয়োজন এবং তার সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ইতোমধ্যেই হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামক এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। নাহিদার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে এই ব্যক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও তাদের হাতে আসেনি। নাহিদাকে সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা গিয়েছিল, এরপর থেকেই তার ফোন ও সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

নাহিদা বৃষ্টির এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি এক মর্মান্তিক মোড় নিয়েছে তারই সহপাঠী ও অপর নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর। শুক্রবার সকালে টাম্পার লেক ফরেস্ট আবাসিক এলাকার একটি সেতু থেকে লিমনের দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জামিল লিমন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের পর গ্রেপ্তারকৃত হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই দিন প্রায় একই সময়ে নিখোঁজ হওয়ায় জামিলের পরিণতির সঙ্গে নাহিদার নিখোঁজ হওয়ার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র এক মাইল দূরে অবস্থিত লেক ফরেস্ট কমিউনিটির আবাসিক এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। নাহিদাকে খুঁজে বের করার বিষয়টি এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

এদিকে, এক সহপাঠীর মৃত্যু ও নাহিদার দীর্ঘকালীন নিখোঁজ থাকার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 1   +   3   =