দৈনিক পূর্বাচল
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
সময়: দুপুর ০১:৩৫ (ঢাকা)
মিরপুরে আধিপত্য ও পলাতক আওয়ামী লীগের মদদে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাইফুল ইসলাম সিজুকে গতকাল চা পানের ছলে গুলি। অস্ত্রসহ ছাত্রলীগ নেতা শান্তকে গ্রেফতার করেছে মিরপুর পুলিশ।
রাজধানীর মিরপুরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জেরে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সিজুকে (৪০) গুলি করে হত্যার চেষ্টার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও শ্যুটারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল (৮ জুলাই) ঘটা এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের প্রধান আসামি মোঃ কাওছার ভুইয়া শান্ত ওরফে এসবি (২৪)-কে জনসাধারণের সহায়তায় একটি সচল আগ্নেয়াস্ত্রসহ হাতে-নাতে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শান্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত ও ৫ই আগস্টের পর পলাতক সংগঠন মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের মানবিক ডিপার্টমেন্টের সভাপতি ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ই আগস্টের পর পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী চক্রের সরাসরি মদদে এবং দেশজুড়ে দলটির নতুন করে খুন, নাশকতা ও রক্তাক্ত রাজত্ব কায়েমের গোপন চক্রান্তের অংশ হিসেবেই গতকাল এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
ছদ্মবেশে রাজনীতিতে প্রবেশ ও সুপরিকল্পিত নীল নকশা
প্রাথমিক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় নিজেদের হারানো রাজত্ব ও একক আধিপত্য পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিম সাইফুল ইসলাম সিজুকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল শান্ত এবং তার পেছনে থাকা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সিন্ডিকেট। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শান্ত সুকৌশলে নিজেকে সংশোধিত দাবি করে ভিকটিম সিজুর সাথে পরিচিত হয় এবং তার সাথে একই রাজনীতি করার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করে। সরল বিশ্বাসে সিজু তার এই প্রস্তাবে সম্মতি দেন এবং শান্তকে নিজের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন।
চা পানের ছলে গতকালকের নৃশংস হামলা
ঘটনার দিন অর্থাৎ গতকাল হামলার বেশ কিছুক্ষণ পূর্ব থেকেই শ্যুটার শান্ত ছদ্মবেশে ভিকটিম সাইফুল ইসলাম সিজুর খুব পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছিল এবং একসঙ্গে চা পান করছিল। একপর্যায়ে সিজু সম্পূর্ণ অসতর্ক থাকাবস্থায়, শান্ত তার বাইরে থাকা সহযোগীদের সংকেত দেয়। সুযোগ বুঝে সিজুকে একেবারে কাছ থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে শান্ত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ সিজুকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
পলাতক আওয়ামী লীগের মদদ ও খুনের রাজনীতি
৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা ও মাঠপর্যায়ের সন্ত্রাসীরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে এবং আবারো রক্তাক্ত রাজত্ব কায়েম করতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। পলাতক থাকা এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পর্দার আড়াল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের অর্থ ও অস্ত্র জোগান দিয়ে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী শান্তকে দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সিজুকে সরিয়ে দেওয়ার এই নৃশংস নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল তারা।
গণধোলাই ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার
গতকাল গুলি করার পরপরই শান্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে চারপাশের সাধারণ মানুষ সাহসিকতার সাথে তাকে ঘিরে ফেলে গণধোলাই দেয়। পরবর্তীতে জনসাধারণের সহায়তায় মিরপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করে।
মিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে এই হামলা চালানো হলেও এর পেছনে পলাতক আওয়ামী চক্রের বড় ধরনের ইন্ধন রয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

