তনু হত্যা মামলা: সন্দেহভাজন জাহিদুজ্জামান ও শাহিনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল

কুমিল্লা, ৯ জুন ২০২৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। মামলার প্রধান দুই সন্দেহভাজন—অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান এবং সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৮ জুন) কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের ১নং আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। সন্ধ্যায় কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম বর্তমানে কুয়েতে পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান দেশেই আত্মগোপনে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি মো. হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

হাফিজুরের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা সেনানিবাসের স্ট্যাটিক সিগন্যালের সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার এবং টাঙ্গাইলের হোগড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাফিজুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তনু হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন হাফিজুর। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের উপস্থিতি এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পায় তদন্ত সংস্থা।

এরই প্রেক্ষিতে, পলাতক এই দুই সন্দেহভাজনকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামকে নির্দেশ দেন বিচারক মুমিনুল হক।

রিমান্ড ও বর্তমান আইনি প্রক্রিয়া

এর আগে, গত ২২ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম আসামি হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাঁকে রাজধানীর কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২৫ এপ্রিল রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম জানান, সোমবার মামলার নিয়মিত তারিখ ধার্য থাকায় হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল, পরে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, “এটি মামলার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সন্দেহভাজন আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গল থেকে সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই মামলার তদন্তে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির নির্দেশ আসায় বিচার প্রাপ্তির আশা নতুন করে জেগে উঠেছে।

#TonuMurderCase #SohagiJahanTonu #JusticeForTonu #InterpolRedNotice #CumillaCourt #PBI #DailyPurbachal #BangladeshNews

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   9   =