দেশভাগের নতুন নীল নকশা: অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর ‘আলাদা প্রদেশ’ তত্ত্বের নেপথ্যে কী?

choitali ray

বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদন:

সোহেল হাওলাদার, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল

দেশের অখণ্ডতা বিপন্ন করে হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশের দাবি তুলেছেন আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী। এর পেছনে আওয়ামী লীগ ও ‘র’-এর স্বার্থ রক্ষার ছক নিয়ে দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ প্রতিবেদন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর যখন দেশে স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে এক নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এবার কাঠগড়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী। সংখ্যালঘু সুরক্ষার নামে দেশের ভেতরে ‘হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ’ গঠনের দাবি তুলে তিনি তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সাধারণ দাবি নয়, বরং বিএনপি সরকারের সহনশীলতার সুযোগ নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও বিভক্ত করার এক গভীর রাজনৈতিক নীল নকশা।

‘আলাদা প্রদেশ’ তত্ত্ব: অধিকার নাকি দেশভাগের চক্রান্ত?

সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তীর কিছু বিতর্কিত বক্তব্য। যেখানে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডার গন্ধ পাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা। তার সমালোচকরা বলছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার আড়ালে তিনি আসলে দেশের ভেতর ভৌগোলিক বিভাজন তৈরি করতে চান। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে ধর্মের ভিত্তিতে ‘আলাদা প্রদেশ’-এর দাবি সরাসরি রাষ্ট্রের অখণ্ডতার ওপর আঘাত। আর এই বিপজ্জনক তত্ত্বের পেছনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

নেপথ্যে আওয়ামী এজেন্ডা ও ‘র’-এর স্বার্থ রক্ষা?

রাজনৈতিক সচেতন মহলের দাবি, অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী আসলে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পুরনো এজেন্ডা বাস্তবায়নেই মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে শেখ হাসিনাকে ‘একমাত্র বিকল্প’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে।

গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের ধারণা, এই ধরনের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং দেশভাগের হুমকি সরাসরি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর দীর্ঘমেয়াদী কৌশল ও স্বার্থের সাথে মিলে যায়। দেশের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক ও আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরি করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নির্বাচিত বিএনপি সরকারের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য।

সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাবার খেসারত

৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে অত্যন্ত নমনীয় ও সহনশীল নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সরকারের এই উদারতাকে একশ্রেণীর ‘আওয়ামীপন্থী’ সুবিধাভোগীরা দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো হলেও তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ জনগণের মনে।

জনগণের স্পষ্ট বার্তা—কোনো অবস্থাতেই দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। চৈতালী চক্রবর্তীর মতো যারা প্রকাশ্যে দেশকে বিভক্ত করার চক্রান্তে লিপ্ত, তাদের আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা রুখতে অবিলম্বে এই বিতর্কিত আইনজীবীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই সব ছদ্মবেশী অপশক্তিকে এখনই শক্ত হাতে দমন করা না গেলে, দেশের বহিরাগত মুরুব্বি ও তাদের এদেশীয় দোসররা আবারও বাংলাদেশকে এক চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দেশের অখণ্ডতা ও জনগণের ঐক্য রক্ষায় এই মুহূর্তে আইনি কঠোরতার কোনো বিকল্প নেই।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   7   =