মাইকিংও দমাতে পারেনি বসিলা-মোহাম্মদপুরের ‘কাইল্লা ফারুক’কে

বসিলা ব্রিজে কাভার্ড ভ্যানে হামলা ও ভাঙচুর; সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও ফারুকের আতঙ্কে মুখ খুলছেন না ভুক্তভোগীরা, সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:মাত্র চার মাস আগে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর হাতকড়া পরিয়ে পুরো মোহাম্মদপুরে মাইকিং করে ঘোরানো হয়েছিল কুখ্যাত চাঁদাবাজ ‘কাইল্লা ফারুক’কে। কিন্তু জামিনে বেরিয়েই আবারো কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে একটি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউসে তাণ্ডব চালিয়েছে সে ও তার গ্যাং। অপরাধীদের দমনে পুলিশের নানা তৎপরতা কিংবা ঢাকঢোল পিটিয়ে গ্রেপ্তার অনেক সময়ই যে কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না, তার এক বাস্তব ও নির্মম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বসিলা ও মোহাম্মদপুর এলাকার আলোচিত চাঁদাবাজ ‘কাইল্লা ফারুক’।

মাত্র চার মাস আগের ঘটনা। বসিলায় একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিল এই ফারুক। সে সময় অপরাধীদের সতর্ক করতে ও জনমনে স্বস্তি ফেরাতে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে পুরো মোহাম্মদপুর এলাকায় মাইকিং করে ঘুরিয়েছিল পুলিশ। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরালও হয়েছিল এবং পুলিশের এই উদ্যোগ দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু এত ঢাকঢোলের সুফল যে স্থায়ী হয়নি, তা প্রমাণ হলো মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই।

কারাগারে থাকার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় জামিনে বেরিয়েই ফারুক আবারো তার পুরোনো চেনা রূপে ফিরেছে। এবার তার অপরাধের থাবা পড়েছে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরের একটি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামিন পেয়েই ফারুক ওই কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউসে গিয়ে নিজের লোকদের চাকরি দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের ভাঙারি জিনিসপত্র নামমাত্র মূল্যে বা কম দামে তার কাছে বিক্রি করার মতো অনৈতিক ও অবৈধ দাবি জুড়ে দেয়। এই অন্যায্য দাবি মানার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সময় দেওয়া হয় মাত্র এক ঘণ্টা।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় চরম ক্ষিপ্ত হয় ফারুক ও তার গ্যাং। এরপরই বসিলা ব্রিজের কাছে কুরিয়ারের গাড়িগুলোর ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায় তারা। নির্বিচারে ইট-পাটকেল ছুড়ে কুরিয়ার সার্ভিসের অন্তত পাঁচটি কাভার্ড ভ্যানের গ্লাস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এই সন্ত্রাসী বাহিনী।

ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে ফারুক ও তার সহযোগীদের এই তাণ্ডবের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তবে কাইল্লা ফারুকের চরম প্রতিহিংসা ও ভয়ের কারণে কুরিয়ার সার্ভিসের সাধারণ কর্মীরা এখন এতটাই আতঙ্কে আছেন যে, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহসটুকুও পাচ্ছেন না কেউ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (পুলিশ ও র‍্যাব) জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের পুনরায় গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

তবে এই ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—মাসের পর মাস খাটাখাটনি ও ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ যে অপরাধীদের ধরে, তারা এত সহজে কীভাবে জামিন পেয়ে যায়? স্থানীয়দের দাবি, শুধু গ্রেপ্তারের মহড়া কিংবা হাতকড়া পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোই শেষ কথা নয়; সমাজকে সত্যিই অপরাধমুক্ত ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিরাপদ করতে হলে এই ধরনের পেশাদার, দুর্ধর্ষ ও বারবার অপরাধে জড়ানো গ্যাং লিডারদের জামিনের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া আরও অনেক বেশি কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   8   =