চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | দৈনিক পূর্বাচল
চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে জেলা যুবদলের সাবেক নেতা জাহিন শেখের ওপর নৃশংস হামলা। কুপিয়ে আলাদা করা হলো হাতের কব্জি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর। ঘটনার তদন্তে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন জেলা যুবদলের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক জাহিন শেখ (৪০)। ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে তাঁর বাম হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া দুই পায়ের তালু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত জাহিন শেখ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জ গ্রামের রজব আলীর ছেলে।
অতর্কিত হামলা ও নৃশংসতা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জাহিন শেখ হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে একদল ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকের বক্তব্য
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব জানান, রোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। তাঁর বাম হাতের কব্জিটি শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেছে। এছাড়া দুই পায়ের তালু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত গুরুতর ক্ষত হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চুয়াডাঙ্গায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত ও জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযান ও তদন্ত
হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই হামলাকারীর নাম ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসেছে। তাদেরসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।”
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর পুরো চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তদন্ত ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

