তেলের জন্য পাম্পের সামনে দীর্ঘ অপেক্ষা আর ভোগান্তি যেন শেষই হচ্ছে না। সরকার বলছে- তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, ডিলারদের দাবি- সরবরাহ কম, আর পাম্পগুলোতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, অকটেন পেতে ক্রেতাদের লম্বা লাইন।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেল নিয়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা দূর হয়নি এখনো। তেলের দাম বৃদ্ধি আর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ সরবরাহ বৃদ্ধির ঘোষণার পরেও ঢাকায় অকটেনের জন্য এখনো ভোগান্তি কেন- এমন প্রশ্ন উঠেছে।
তেলের এই সংকটের নেপথ্যে ক্রেতা, বিক্রেতা ও সরবরাহকারী তিনটি পক্ষের ভূমিকা ও দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ।
অকটেনের সংকট কেন এতটা প্রকট হলো সেটি খতিয়ে দেখে ত্রিমুখী সমস্যা ধরা পড়েছে।
সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং তেলের সরবরাহ ও বিক্রয় তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে, মূলত ভোক্তাদের আতঙ্ক ও অতিরিক্ত চাহিদা, দ্বিতীয়ত মজুতদারি ও কালোবাজারে বিক্রি এবং তৃতীয়ত, বিপিসির তেল বিক্রয় ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে বাংলাদেশে অকটেন নিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশে মার্চ মাসে যখন সরকার তেল রেশনিং করার ঘোষণা দেয়, এর পর থেকেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থেকে তেল কেনার প্রবণতা বেড়ে যায়। নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও ভোক্তাদের সেই বাড়তি চাহিদা কমানো সম্ভব হয়নি।
এরপর সরকার রেশনিং বন্ধের ঘোষণা দিলেও পাম্পে গিয়ে ক্রেতারা এখনো পূর্ণ চাহিদার তেল পাচ্ছেন না।


