আড্ডা থেকে যেভাবে আসক্তিতে

চা-এর দোকানে বন্ধুদের আড্ডা কিংবা কর্পোরেট কালচারে অফিসের ‘স্মোকিং জোন’ আজকাল নেটওয়ার্কিং ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে ধূমপান। অনেকেই স্রেফ দলছুট না হওয়ার জন্য কিংবা পেশাদারী খাতিরে সিনিয়র-সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক জোড়ালো করতে সাময়িকভাবে এতে জড়ান।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় “সামাজিক ধূমপান” (Social Smoking)। তবে আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ মনে হওয়া এই অভ্যাসটিই মূলত নিকোটিন আসক্তির প্রথম ধাপ।

সামাজিক ধূমপানের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে ‘পিয়ার প্রেশার’ বা সহকর্মীদের মানসিক চাপ। মানুষ স্বভাবগতভাবেই কোনো একটি দলের অন্তর্ভুক্ত হতে চায়।

যখন কোনো আড্ডায় বা কর্পোরেট সার্কেলে ধূমপানকে স্মার্টনেস বা বন্ধুত্বের মাপকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন একা থাকার অস্বস্তি এড়াতে অনেকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রথম টানটি দেন।

কর্পোরেট সংস্কৃতিতে অনেক সময় মনে করা হয়, স্মোকিং জোনে না গেলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা ইনফরমাল নেটওয়ার্কিং থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই “বাদ পড়ার ভয়” (FOMO – Fear Of Missing Out) মানুষকে ধূমপানের দিকে ঠেলে দেয়।

কিন্তু এই সাময়িক সামাজিকতা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী আসক্তিতে রূপ নেয়? এর পেছনে রয়েছে নিকোটিনের মারাত্মক জৈবিক ফাঁদ। তামাকের নিকোটিন মস্তিষ্কে প্রবেশ করে সাময়িক আনন্দ ও শিথিলতার অনুভূতি দেয়, যাকে ‘ডোপামিন রাশ’ বলা হয়।

প্রথম দিকে সপ্তাহে বা মাসে একদিন ধূমপান করলেও, মস্তিষ্ক খুব দ্রুত এই কৃত্রিম আনন্দের অভ্যাসটি ধরে ফেলে। ধীরে ধীরে আড্ডার বাইরের একাকীত্ব, কাজের মানসিক চাপ কিংবা স্রেফ অভ্যাসের বশে মানুষ সিগারেটের দিকে হাত বাড়ায়। তখন এটি আর সামাজিক বন্ধনের মাধ্যম থাকে না, বরং শরীরের নিকোটিনের চাহিদা মেটানোর একটি বাধ্যতামূলক আসক্তিতে পরিণত হয়।

যে ধূমপান শুরু হয়েছিল স্রেফ আড্ডা কিংবা কর্পোরেট নেটওয়ার্কিংয়ের বাহানা হিসেবে, সচেতনতার অভাবে তা একসময় রূপ নেয় স্থায়ী শারীরিক ও মানসিক মরণব্যাধিতে। সহকর্মীদের চাপ সামলে “না” বলতে পারাটাই এই ফাঁদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 1   +   4   =