স্টাফ রিপোর্টার, ডেইলি পূর্বাচল:
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় ও দাফন-সৎকার নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে হত্যার অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশ জানায়, মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩), যিনি প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘কাজী সোহাগ’ রাখেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা এলাকায় অবস্থানকালে তার মৃত্যু হয়। তবে মৃতের স্ত্রী মমতাজ মিম দাবি করেছেন, ইসলাম গ্রহণের কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তার পুনরায় হিন্দুধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি কালীমন্দির সংলগ্ন শ্মশানে মরদেহ দাহের প্রস্তুতি নেওয়া হলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতের স্ত্রী ও তার মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে দাফনের দাবি জানান। এতে ঘটনাস্থলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোল্লাহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হক বলেন, মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন জানান, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।


