বিনোদনের নামে কুরুচির বিস্তার: আমরা কোথায় যাচ্ছি?

বর্তমানে আমাদের দেশের বিনোদন মাধ্যমে এক অদ্ভুত প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদল নির্মাতা যেন মনে করছেন, পর্দায় গালিগালাজ ও কুরুচিপূর্ণ সংলাপ ব্যবহার করলেই তারা আধুনিক, উদার কিংবা বড় মাপের পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।

‘বাস্তব জীবনের প্রতিফলন’ দেখানোর যুক্তিতে যে ধরনের ভাষা ও উপস্থাপনা তারা সামনে আনছেন, তা প্রকৃতপক্ষে সৃজনশীলতার সংকটকেই তুলে ধরে। বাস্তবতা তুলে ধরা অবশ্যই শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কিন্তু তা কখনোই শালীনতার সীমা ভেঙে যাওয়ার অজুহাত হতে পারে না।

আমাদের চলচ্চিত্রের সোনালী অতীতেও জীবনঘনিষ্ঠ গল্প ছিল, সমাজের কঠিন বাস্তবতা ছিল। কিন্তু সেই উপস্থাপনায় ছিল সংযম, ছিল নান্দনিকতা। কারণ শিল্পের মূল শক্তি কুরুচি নয়, বরং সৌন্দর্য ও বোধের সুষম প্রকাশ।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক নির্মাতা আজ এই মৌলিক বিষয়টি ভুলে গেছেন। তারা যে কনটেন্ট নির্মাণ করছেন, তা নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে উপভোগ করতেও দ্বিধা বোধ করেন। এই দ্বিচারিতা প্রমাণ করে, এটি শিল্পচর্চা নয়—বরং বাজারকেন্দ্রিক কুরুচির প্রসার।

আজ হয়তো এই প্রবণতা অবাধে চলতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সমাজ কখনোই দীর্ঘদিন ধরে অশালীনতা ও অবক্ষয়কে প্রশ্রয় দেয় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিক্রিয়া আসবেই।

যারা মনে করছেন, এর কোনো প্রতিকার হবে না—তারা ভুল করছেন।
সমাজ, সংস্কৃতি ও দর্শকের রুচিই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেয় কোনটা টিকে থাকবে আর কোনটা হারিয়ে যাবে।

এটি শুধু একটি মতামত নয়—সময়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   6   =