ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে ১০০ দিনও বাকি নেই। এর মধ্যে শুরু হওয়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান ফুটবল কর্তৃপক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এখন ফুটবল মহোৎসবে ইরানের অংশগ্রহণ ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে সরে যেতে ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন, অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিলো যে, তাদের বাদ দেয়ার এখতিয়ার কারও নেই।
সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান ট্রাম্প তাকে বলেছেন যে, ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘোষণার ২৪ ঘন্টা পেরোতেই অন্য সুর শোনা গেল ট্রাম্পের গলায়। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহারের পরামর্শ দেন। তিনি লেখেন, ‘ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবন ও নিরাপত্তার কথা ভাবলে সেখানে (যুক্তরাষ্ট্র) আসা তাদের জন্য উপযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি না।’ এদিকে কয়েক মাস আগেও ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেন যে, ইরানকে ভিসা দিতে তার আপত্তি নেই। তবে গত মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে।
ট্রাম্পের এমন পরামর্শের জবাবে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের পক্ষ থেকে একটি কড়া ভাষায় বিবৃতি দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের সেই পোস্টে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপ কোনো ব্যক্তি বা দেশের সম্পত্তি নয়, এর নিয়ন্ত্রক ফিফা। ইরান যোগ্যতা অর্জন করেই এখানে এসেছে। কেউ আমাদের বাদ দিতে পারবে না।’ উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইরান বলে, “বরং বাদ পড়তে পারে সেই দেশ, যারা শুধু ‘আয়োজক’ নামটি বহন করে। তবে এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নেয়া দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নেই।”
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি এর আগে সরাসরি জানান, যে দেশ তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে এবং গত কয়েক মাসে হাজারো ইরানিকে হত্যার জন্য দায়ী, তারা সেই দেশে খেলতে যেতে আগ্রহী নন। গত সপ্তাহে আটলান্টায় ফিফার প্রস্তুতি সভায় কেবল ইরানই উপস্থিত হয়নি।
এদিকে এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ফিফার আইন অনুযায়ী, কোনো আয়োজক দেশ যদি কোনো নির্দিষ্ট দলকে স্বাগত জানাতে অস্বীকার করে অথবা তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের কাছ থেকে আয়োজক স্বত্ব কেড়ে নেয়া হতে পারে। ২০২৩-এ ইসরাইলকে ঢুকতে না দেয়ায় ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে এই আইনের প্রয়োগেই অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের স্বত্ব কেড়ে নেয় ফিফা।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ই জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা ইরানের। একই ভেন্যুতে ২১শে জুন ইরানিরা খেলবে বেলজিয়ামের সঙ্গে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মোহাম্মদ সালাহর মিশরের বিপক্ষে নামবে ইরানিয়ান লায়নরা।


