আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে এবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি নজিরবিহীন খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। চিঠিতে তিনি পুতিনের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি (ফেস-টু-ফেস) বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন সময়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দিয়েছেন ইউক্রেনীয় নেতা।
সরাসরি আলোচনার তাগিদ ও আমেরিকার দৃষ্টি বদল
চিঠিতে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরোপের এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত “শুধু অপেক্ষা করে থাকাটা ভুল হবে”। মূলত বৈশ্বিক রাজনীতিতে বর্তমানে আমেরিকার পুরো মনোযোগ ‘ইরান সংকটের’ দিকে রয়েছে—বিষয়টি কিয়েভ প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছে। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, কেবল ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে “সরাসরি সম্পৃক্ততা ও আলোচনার” মাধ্যমেই শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি চিঠিতে সরাসরি লিখেছেন, “ইউক্রেন আমাদের এবং আপনার মধ্যে সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব করছি।”
চিঠিতে পুতিনকে খোঁচা ও মস্কোর প্রতিক্রিয়া
চিঠিতে আলোচনার প্রস্তাব থাকলেও জেলেনস্কির সুর ছিল বেশ আক্রমণাত্মক, এমনকি কিছুটা উপহাসমূলক। রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লিখেছেন, “২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর, বয়স এখন পুতিনের ওপর তার প্রভাব দেখাতে শুরু করেছে।”
মস্কোর ক্রেমলিন প্রাসাদ চিঠিটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, চিঠিটি সম্পর্কে পুতিনকে বিস্তারিত অবহিত করা হবে। তবে বরাবরের মতোই ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেলেনস্কি চাইলে যেকোনো সময় মস্কোতে এসে পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। অবশ্য ইউক্রেনীয় নেতা রাশিয়ার মাটিতে গিয়ে বৈঠকের বিষয়টি আগেই নাকচ করে দিয়েছেন এবং তৃতীয় কোনো দেশে এই বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি ও ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিতর্ক
জেলেনস্কি আলোচনার দিনগুলোতে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি ও ‘সবাই-সবার জন্য’ বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাব দিলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর আগে এই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে বিদেশি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পুতিন বলেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে “অবশ্যই প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক”, তবে এর জন্য ইউক্রেনকে কিছু আপস বা সমঝোতা করতে হবে।
পুতিন আরও ইঙ্গিত দেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এই সুযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউআই) জেলেনস্কিকে চাপ দিয়ে ইউক্রেনের কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে রাজি করাতে পারে।
পাশে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুই নেতার মুখোমুখি বসার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, দুই নেতা যদি বৈঠকে বসেন তবে সেটি “দারুণ একটি বিষয়” হবে। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, যুদ্ধ থামাতে উভয় পক্ষকেই কিছু না কিছু সমঝোতা বা আপস করতে হবে এবং তার প্রশাসন দুই দেশকে কূটনীতির টেবিলে বসাতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
চলতি জুনে (২০২৬) দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক অবস্থান এবং মার্কিন ও ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

