বিশেষ ফিচার | দৈনিক পূর্বাচল
০৪ নভেম্বর ২০২৬
সামাজিক ট্যাবু ও মানসিক সংকোচের কারণে বিশ্বজুড়েই পুরুষেরা অনেক সময় নিজেদের ব্যক্তিগত ও প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কিত জটিলতাগুলো চরম গোপনীয়তার আড়ালে লুকিয়ে রাখেন। এমনকি স্ত্রীর কাছেও এসব অসুখ প্রকাশ করতে তাদের মধ্যে তীব্র লজ্জাবোধ কাজ করে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের লুকোচুরি শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরুষদের মধ্যে যে রোগগুলো নিয়ে গোপনীয়তা ও সংকোচ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তার একটি বড় অংশজুড়ে থাকে প্রজননতন্ত্র বা সংবেদনশীল অঙ্গের নানা জটিলতা। এর মধ্যে অণ্ডকোষের বিভিন্ন সমস্যা, যৌন দুর্বলতা, মলদ্বারের ফিস্টুলা কিংবা গাইনোকোমেশিয়া বা পুরুষের অস্বাভাবিক স্তন বৃদ্ধির মতো সমস্যাগুলো অন্যতম।
স্ত্রীর কাছেও লুকোনোর প্রবণতা
রোগের কথা গোপন রাখার এই বাস্তব চিত্রটি ফুটে ওঠে ভুক্তভোগী এক নারীর অভিজ্ঞতায়। ঢাকার বাসিন্দা সাবিনা ইয়াসমিন (ছদ্মনাম) মাসকয়েক আগে লক্ষ্য করেন, তাঁর স্বামী স্বাভাবিকভাবে বসতে পারছেন না এবং তাঁর শারীরিক চালচলনে ব্যথার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে।
সেদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সাবিনা জানান, “প্রথমে আমাকে জানালো যে তার পায়ুপথের কাছে একটা ফোঁড়া হয়েছে। তখন আমি দেখতে চাইলে ও রাজি হল না। যখন দেখছি যে ও খুব কষ্ট পাচ্ছে তখনও সে আমাকে দেখতে দেয় না। এরকম বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে। এরপর এক রকম জোর করেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। সে তখনও আমাকে ডাক্তারের চেম্বারের মধ্যে ঢুকতে দেয়নি।”
চিকিৎসকদের সতর্কতা
মনোবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এবং ছোটবেলা থেকে তৈরি হওয়া কিছু সামাজিক মানসিকতার কারণেই পুরুষেরা নিজেদের শারীরিক দুর্বলতা বা সংবেদনশীল রোগগুলোকে ‘পুরুষত্বহীনতা’ বা লজ্জার বিষয় বলে ধরে নেন। তাঁরা ব্যথা বা কষ্ট সহ্য করেও রোগ লুকিয়ে রাখেন, যা পরবর্তীতে ইনফেকশন বা ক্যানসারের মতো মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রজনন স্বাস্থ্য বা সংবেদনশীল যেকোনো শারীরিক সমস্যাকে সাধারণ রোগ হিসেবেই দেখা উচিত এবং কোনো ধরনের রাখঢাক না করে দ্রুত পেশাদার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।


