অন্যান্য

হার্ট অ্যাটাক: আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও হতে পারে নীরব ঘাতক, জেনে নিন ৮টি প্রাথমিক লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক | দৈনিক পূর্বাচল:

হার্ট অ্যাটাক কেবল আগে থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরই হয়—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আপাতদৃষ্টিতে পুরোপুরি সুস্থ ও সবল মানুষেরও হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হার্টে রক্ত সরবরাহকারী কোনো ধমনি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশিতে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়, যা মূলত হার্ট অ্যাটাকের কারণ।

এই মারাত্মক সংকট থেকে জীবন বাঁচাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। আর এর জন্য প্রতিটি মানুষেরই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ ও উপসর্গগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। ব্যক্তিভেদে লক্ষণগুলো ভিন্ন হতে পারে; কারও ক্ষেত্রে একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে লক্ষণ থাকে খুবই মৃদু।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (AHA) তথ্য অনুযায়ী হার্ট অ্যাটাকের প্রধান ৮টি লক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা

হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত ও প্রধান লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড চাপ, ভারী লাগা বা চেপে ধরার মতো অনুভূতি। অনেকের ক্ষেত্রে এই ব্যথা ধীরে ধীরে তীব্র হয়ে অস্বস্তির সৃষ্টি করে। সব ক্ষেত্রে একই রকম বুকব্যথা নাও থাকতে পারে, তাই যেকোনো অস্বাভাবিক ও তীব্র বুকের অস্বস্তিকে অবহেলা করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

২. হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ব্যথা

এই ব্যথা কেবল বুকের মাঝখানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি এক বা দুই হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পিঠের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বুকের অস্বস্তির সঙ্গে এসব স্থানে চাপ অনুভূত হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

৩. হঠাৎ শ্বাসকষ্ট

হঠাৎ করে শ্বাস নিতে তীব্র কষ্ট হওয়া হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় সতর্কবার্তা। কখনো বুকব্যথার সঙ্গে, আবার কখনো বুকব্যথা ছাড়াই শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমে ফুসফুসে তরল জমে গেলে এমন জটিলতা তৈরি হয়।

৪. কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম

সাধারণ গরম বা শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া হঠাৎ করেই ঠান্ডা ঘাম হওয়া, বিশেষ করে তার সঙ্গে বুকের অস্বস্তি, দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।

৫. মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

হার্ট অ্যাটাকের সময় রক্ত চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটলে মাথা ঘোরা, চরম দুর্বলতা কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বুকব্যথা বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে একে জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি

বমি বমি ভাব মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়; তবে বুকের ব্যথা, অস্বস্তি বা ঠান্ডা ঘামের সঙ্গে বমি হলে সতর্ক হওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বুকের ব্যথার পাশাপাশি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গগুলো বেশি দেখা যায়।

৭. পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা বা অস্বস্তি

কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাকের অস্বস্তি পেটের ওপরের অংশেও অনুভূত হয়। সাধারণ মানুষ এটিকে গ্যাস বা বদহজম ভেবে ভুল করেন এবং কালক্ষেপণ করেন। পেটের অস্বস্তির সঙ্গে বুকব্যথা বা ঘাম থাকলে তা গ্যাস্ট্রিক ভেবে এড়িয়ে চলা ঠিক নয়।

৮. অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ প্রচণ্ড দুর্বল বা ক্লান্ত বোধ করাও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে অন্যান্য উপসর্গের পাশাপাশি এই ক্লান্তি বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা বা ব্যথা হাত-ঘাড়-চোয়াল-পিঠে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। উপসর্গ এমনিতেই কমে যাবে ভেবে ঘরে বসে সময় নষ্ট করা বা নিজে থেকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে বসে থাকা জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।

অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াও নীরবে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, যাকে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ বলা হয়। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment