sara desh

হাতে নয়, মেধার জয়: পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন দুই হাত হারানো রাব্বি

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৬

দুর্ঘটনার কারণে দুই হাত হারিয়েও দমে যাননি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মো. রাব্বি। পা দিয়ে লিখে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

চট্টগ্রাম: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে অদম্য ইচ্ছা ও কঠোর অধ্যবসায়ের কাছে হার মানে, তার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন মো. রাব্বি। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শৈশবেই দুই হাত হারালেও থেমে থাকেননি তিনি। পা দিয়ে লিখে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা রাব্বি ভাটিয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর আগে একই নিয়মে পা দিয়ে লিখে এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি।

সংগ্রামের নেপথ্য কাহিনি:

২০১৬ সালে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্কুলে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের দুর্ঘটনায় রাব্বির দুটি হাতই কেটে ফেলতে হয়। তবে এই বিপর্যয় তার মনোবল ভাঙতে পারেনি। অদম্য জেদ নিয়ে তিনি পা দিয়ে লেখালেখি রপ্ত করেন এবং পড়াশোনায় ফিরে আসেন। কয়েক বছর পড়াশোনা ব্যাহত হলেও হার না মানা মানসিকতা নিয়ে তিনি আবার এগিয়ে যান।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া রাব্বির এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। দিনমজুর বাবা বজলুর রহমান ও মায়ের সীমিত আয়ের সংসারে নানাবিধ অভাব-অনটন সত্ত্বেও তারা ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে গেছেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে রাব্বির বোন রোকেয়া আকতারও এবার ভাটিয়ারী বিজয় সরনী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

প্রতিশ্রুতি মিললেও মেলেনি বাস্তব সহযোগিতা:

এসএসসিতে অসাধারণ সাফল্যের পর রাব্বি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। সে সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহলের পক্ষ থেকে তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দুঃখজনকভাবে তার অধিকাংশই বাস্তবে রূপ নেয়নি। তবে এই দুর্দিনে আশীর্বাদ হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ক’জন সুহৃদ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌস কাদেরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাব্বির পড়াশোনার খরচ বহন করে আসছেন। পাশাপাশি, স্থানীয় শিক্ষক মো. ওসমান বিনা পারিশ্রমিকে তাকে কোচিং করিয়েছেন।

বড় হওয়ার স্বপ্ন:

প্রতিকূলতাকে জয় করে চলা রাব্বির ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বেশ সুদূর প্রসারী। উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন বিজ্ঞানী হতে চান তিনি। নিজের মেধা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে চান এই অদম্য মেধাবী। রাব্বির এই অভাবনীয় সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment