ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক পূর্বাচল
তারিখ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় অবৈধ স্থাপনা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থার প্রশাসক আবদুস সালাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দেশনা অমান্য করে কেউ রাস্তা বা ফুটপাত দখল করলে এবার শুধু মালামাল জব্দই নয়, প্রয়োজনে আইনগতভাবে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেটসংলগ্ন এলাকায় ডিএসসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত ও উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্দিষ্ট স্থানেই করতে হবে ব্যবসা
হকারদের পুনর্বাসন ও শৃঙ্খলার বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের ব্যবসার সুবিধার্থে নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট এবং হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই নির্ধারিত স্থানগুলোর বাইরে যত্রতত্র দোকান বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো সড়ক এবং মূল সড়কগুলো সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
বারবার সতর্ক করার পরও উচ্ছেদকৃত স্থান পুনরায় দখল করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুস সালাম বলেন, “হকারদের বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং তাদের সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু এরপরও কিছু অসাধু চক্র নতুন করে দোকান বসাচ্ছে। তাই জনস্বার্থে এখন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।”
অভিযানের বিস্তারিত
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা হলেন—
-
প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম
-
প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবীর সোহাগ
-
সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান
-
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম
অভিযানে সংস্থাটির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি শতাধিক উচ্ছেদকর্মী এবং ছয় প্লাটুন পুলিশ অংশ নেয়। এ সময় পে-লোডারসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখা বিভিন্ন মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
নিয়মিত চলবে এই অভিযান
ডিএসসিসি জানিয়েছে, সাধারণ পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই কার্যক্রম কোনো বিরতি ছাড়াই নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সিটি কর্পোরেশনের এমন কঠোর পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নগরবাসী ও পথচারীরা।


