নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার রাতে তার সঙ্গে থাকা বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কীভাবে তাহসিফ নিখোঁজ হলেন এবং তাকে খুঁজে না পেয়ে দীপ কেন একা ফিরে এলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তার দেওয়া তথ্যগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।
সর্বশেষ জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তারা দুজন টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় গেলে পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। ভয়ে তাহসিফ দৌড়ে পালাতে গিয়ে নদীর পানিতে পড়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। তবে ধাওয়াকারীরা প্রকৃতপক্ষেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন, নাকি মাদক কারবারি বা অন্য কোনো দুর্বৃত্তের ছদ্মবেশ ছিল—তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাস্থলটি মাদক কেনাবেচার জন্য পরিচিত হওয়ায় ওই রাতে মাদকসংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য ও মোটরসাইকেল উদ্ধারপিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া প্রতিটি তথ্য ও বক্তব্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের সঙ্গে মাদকের কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
এর আগে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পিবিআই। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে পাওয়া এই মোটরসাইকেলের মালিকানা ও ঘটনার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাততদন্ত সূত্র জানায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে তাহসিফের বাসার গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজে দীপকে দেখা যায়। এরপর তারা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে বের হন। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল মেরামতের পর তারা একসঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খান এবং পরবর্তীতে টঙ্গীর মাজার বস্তি ও তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় যান। সেখানে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও পরিস্থিতির পর তাহসিফকে খুঁজে না পেয়ে তিনি একাই বাসায় ফিরে যান বলে দাবি করেন।
তবে তাদের চলাফেরা, আকস্মিক ওই এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্য এবং বন্ধুকে হারিয়ে ফেলার পর দীপের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছে নিহতের পরিবার ও তদন্তকারীরা। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী তদন্তের স্বার্থে দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


