অন্যান্য

বাবার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান, একসঙ্গে পথ চলার ঘোষণা দিলেন তাশরীফ

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল

পারিবারিক রাগ-অভিমান ও মনোমালিন্যের অবসান ঘটিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ও সংগীতশিল্পী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ এবং তাঁর বাবা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা-সমালোচনার পর বাবা ও ছেলে যৌথভাবে এক ভিডিওবার্তায় বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, পারিবারিক বিষয় পারিবারিকভাবেই সমাধান করা হয়েছে এবং তাঁরা এখন থেকে সুন্দরভাবে একসঙ্গে সামনের দিনগুলো কাটাতে চান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাবাকে পাশে রেখে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ ভিডিওবার্তায় এসব কথা জানান তাশরীফ।

ভিডিওবার্তায় জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ বলেন, ‘পরিবারে কখনো রাগ-অভিমান আর কখনো আদর-ভালোবাসা—এটাই স্বাভাবিক। আমরা সব সময় পারিবারিক বিষয়গুলো পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চাই। আজ আমার বাবা স্বেচ্ছায় আমার কাছে এসেছেন। আমি তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছি, আশা করি তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমরা এখন থেকে মিলেমিশে থাকতে চাই। আশা করি, এ নিয়ে কেউ আর কোনো প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন না।’

বাবার প্রতি নিজের কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে এই তরুণ সংগীতশিল্পী বলেন, ‘পেছনে যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমরা সামনের জীবনটাকে সুন্দর করতে চাই এবং দেশবাসীর সামনে একটি সুন্দর পরিস্থিতি তুলে ধরতে চাই। আল্লাহ তাআলার ইবাদতের পর মা-বাবার খেদমত করা সন্তানের দায়িত্ব। আর্থিক, শারীরিক ও সামাজিক—যেভাবেই সম্ভব, আমি আমার বাবা-মায়ের খেদমত করতে চাই।’

কোরবানির ঈদের সময়ের পারিবারিক বিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাস বা টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না। বাবার জন্য যেকোনো সময় জীবনও দিয়ে দেওয়া উচিত। এটাই প্রকৃত সন্তানের আচরণ।’

‘আমার অতিরিক্ত রাগের কারণেই এই অধঃপতন’ —তাশরীফের বাবা

ভিডিওবার্তায় ভুল স্বীকার করে তাশরীফের বাবা বলেন, ‘পরিবারে রাগ-গোস্বা হতেই পারে, কিন্তু আমার অতিরিক্ত রাগের কারণেই আজ এই অধঃপতন। আমি যদি সে সময় ভিডিওতে না আসতাম, তবে ঘটনা এত দূর গড়াত না। কিছু মানুষ আমাকে প্রলোভন দেখিয়েছিল।’

ছেলের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে এমন এক সন্তান দিয়েছেন, যার চেহারা, কণ্ঠ, কথাবার্তা ও আচার-আচরণ—সবকিছুতেই আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত রয়েছে। কিন্তু আমি তার মূল্য বুঝতে পারিনি। এটি আমার বড় ব্যর্থতা। শয়তানের চক্করে পড়ে আমি বড় ভুল করেছি।’

নিজের ভুল ভাঙার পেছনের গল্প শুনিয়ে তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী (তাশরীফের সৎমা) তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে বিপদে একমাত্র সন্তানই পাশে দাঁড়াবে। স্ত্রীর সেই কথা তাঁর টনক নড়ে গেছে বলে জানান তিনি। দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমার ছেলে যেন আরও বড় হয় এবং আল্লাহ যেন আমাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল করা থেকে হেফাজত করেন।’

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment