অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার। সংস্থাটির কাছে দেশটির মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৬৮০ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর এই বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। উন্নয়ন সহযোগী এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৩৯০ কোটি ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।
আইএমএফের সাম্প্রতিক ঋণসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ঋণগ্রহীতার তালিকায় আর্জেন্টিনার পরেই রয়েছে যথাক্রমে ইউক্রেন, পাকিস্তান, মিসর ও ইকুয়েডর।
তালিকা অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউক্রেনের কাছে আইএমএফের পাওনা ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার। এছাড়া পাকিস্তানের বকেয়া ঋণ ১ হাজার ৮০ কোটি, মিসরের ১ হাজার ৬০ কোটি এবং ইকুয়েডরের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৯৪০ কোটি ডলার। তবে ঋণের পরিমাণের চেয়ে অর্থনীতির আকারের (জিডিপি) অনুপাতে এই ঋণের বোঝা দেশভেদে বেশ ভিন্ন।
যেমন—আর্জেন্টিনার বকেয়া ঋণ দেশটির আনুমানিক জিডিপির ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ইকুয়েডরের ক্ষেত্রে এই হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ইউক্রেনের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা একেবারেই কম—মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।
আর্জেন্টিনা ও সংকটে পড়া অন্য দেশগুলো
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক মন্দা ও বারবার বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকটের কারণেই আইএমএফের কাছে আর্জেন্টিনার দায়বদ্ধতা সবচেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে মুদ্রাবাজারের সংকট সামলাতে দেশটি ৫ হাজার ৭০০ কোটি (৫৭ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল ঋণসহায়তা নেয়, যা ছিল আইএমএফের ইতিহাসের বৃহত্তম ঋণ কর্মসূচি। পরবর্তীতে ২০২২ সাল এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে নতুন ২০০ কোটি ডলারের সহায়তা অনুমোদন করা হয়। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যয় সংকোচন ও রাজস্ব শৃঙ্খলার মাধ্যমে অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউক্রেনের অর্থনীতির মূল ধাক্কা এসেছে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে। অবকাঠামোগত ক্ষতি ও সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে দেশটির। এছাড়া পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, দুর্বল করব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতের দেনায় জর্জরিত।
শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান
আইএমএফের বৈশ্বিক তালিকায় ৩৯০ কোটি ডলারের বকেয়া নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ৮ নম্বরে। বাংলাদেশের ঠিক আগে ৬ষ্ঠ ও ৭ম স্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট (৫৬০ কোটি ডলার) এবং ঘানা (৪০০ কোটি ডলার)। আর ৯ম স্থানে রয়েছে কেনিয়া, যাদের বকেয়া ৩৮০ কোটি ডলার।
শীর্ষ ১৫টি দেশের তালিকায় আরও রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, শ্রীলঙ্কা, অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া, কোস্টারিকা ও জর্ডান।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু ঋণের অঙ্ক দিয়ে কোনো দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয়, অর্থনীতির সার্বিক আকার, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং ঋণের সঠিক ব্যবহারের ওপরই মূলত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করে।


