বিস্মৃত সেই স্মৃতির প্রহর
বেলাল
কত রাত পেরিয়ে গেল—
মনে নেই তার হিসাব;
তবু সন্ধ্যার মলিন আলোয়
জেগে ওঠে পুরোনো স্বভাব।
কোনো অচেনা বাতাস এসে
কানে কানে বলে যায়,
দূর নিকটের নিভৃত বীথি
আজও যেন কাছে চায়।
শেষ কবে যে ভিজে ছিলাম
তোমার প্রণয় জলে—
বিস্মৃত সেই স্মৃতির প্রহর
শুষ্ক দূর বাদলে।
রোদ পড়েনি হৃদ-আকাশে,
ভাবনারা ছারখার;
নিভৃত বীণার তারে বাজে
বিরহেরই হাহাকার।
তোমার ছায়া খুঁজতে খুঁজতে
কত ঋতু গেল ঝরে,
শিউলি-সুবাস, কুয়াশা-ভেজা
ভোর নেমেছে ঘরে।
যে পথ আজ বিস্মৃতপ্রায়,
তার বাঁকে থেমে যাই;
শূন্য পথে পায়ের শব্দ—
মনে হয়, তুমি তাই।
ভেবেছিলাম—সবই বুঝি
সময়ের স্রোতে ক্ষয়;
অভিমান, অনুরাগ, বিদায়—
সবই হবে বিস্ময়।
কিন্তু স্মৃতির গোপন কুঠুরি
বন্ধ থাকে না চিরকাল;
নিশীথ রাতে দ্বার খুলে দেয়
অতীতের মায়াজাল।
নিশীথ শেষে সে দুয়ার
নিঃশব্দে যায় খুলে,
আমি ফিরে যাই সেই প্রহরে
চন্দ্রালোকের তলে।
যেখানে হারানোর পূর্বে
সবকিছুই ছিল আমার—
একটি স্বপ্ন, দুটি নয়ন,
একটি অনন্ত অধিকার।
আজও কাছে যাওয়ার পথ
খোলা আছে মনে;
পুরোনো সেই ভালোবাসা
জেগে থাকে গোপন ক্ষণে।
বুকের ভেতর ক্ষীণ প্রদীপ
আজও জ্বলে নিরন্তর;
হারানো দিনের মায়া মেখে
আলো দেয় অন্তর।
ভুলে থাকার অভিনয় করি,
ভুলতে পারি না তবু;
স্মৃতি যদি মুছে যায়,
বাঁচে কি মন আর কভু?
যে প্রেম একদিন বৃষ্টি হয়ে
ভিজিয়েছিল প্রাণ,
আজও তারই রেশে জাগে
আমার নীরব গান।
সময়ের ওপার থেকে যেন
কোনো অদৃশ্য ক্ষণে,
সেই হারানো দিনের সুবাস
ফিরে আসে গোপনে।
তুমি দূরে, তবু হৃদয়জুড়ে
তোমারই নীরব ঘর;
চোখের জলে বেঁচে থাকে
ভালোবাসার সেই প্রহর।


