নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে শক্তিশালী এল নিনো চলতি বছরের ডিসেম্বরে চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা, অতিবৃষ্টি এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএমওর সাম্প্রতিক জলবায়ু বুলেটিনে বলা হয়েছে, বছরের শেষ দিকে এল নিনোর পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়ে এর প্রভাব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এল নিনো আসলে কী?
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। এর প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বদলে যায়, যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও ঝড়ের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলোর মতে, আসন্ন এই শক্তিশালী এল নিনো সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম বড় জলবায়ু ঘটনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এর আগে ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বর্তমান পটভূমিতে এই শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হলে তা নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি করতে পারে।
সম্ভাব্য বড় যেসব ঝুঁকির আশঙ্কা:
-
অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও তাপপ্রবাহ: বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পাশাপাশি তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
-
খরা ও পানির সংকট: কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে কৃষিকাজ, সুপেয় পানির সরবরাহ এবং খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
-
অতিবৃষ্টি ও বন্যা: বিপরীতভাবে অন্য কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
-
স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি: তীব্র গরমে পানিশূন্যতা ও তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি (বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে) বাড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে পণ্যের দাম বাড়ার অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতি
বাংলাদেশে এল নিনোর প্রত্যক্ষ প্রভাব সবসময় এক রকম না হলেও এর সঙ্গে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনের নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। তাই দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি পরিকল্পনায় হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় এখন থেকেই জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।


