নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা: দৈনিক পূর্বাচল
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন নামের এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যার বিস্তারিত জানুন।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের চারপাশের অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। দেখে মনে হচ্ছে, জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছিল ওই কিশোরী। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
জীবন বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা ও ঘটনাস্থলের চিত্র
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নির্জন পাকা সড়কের দুপাশেই রয়েছে বিস্তৃত সবুজ মাঠ। সড়কের মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশের ধানক্ষেতগুলো এলোমেলো হয়ে আছে এবং সেখানে দৌড়াদৌড়ির স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। সড়কের একপাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা সেটিকে টেনে সড়কে তোলেন। সিএনজিটির ২০-৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানেটি ব্যাগ এবং একটু সামনে একটি ধানক্ষেতে তরুণীর মরদেহ দেখতে পান তারা।
নিহতের শরীরের মাথা কাদায় গাড়ানো, পুরো শরীর বস্ত্রহীন এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। পরে মানুষের ভিড় বাড়লে স্থানীয়রা একটি গামছা দিয়ে তার নগ্ন শরীর ঢেকে দেন এবং জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয়দের ধারণা, মেয়েটিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। সিএনজিটি কেন সেখানে পড়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়ে এলাকায় নানা রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে। নিহতের শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এছাড়া জব্দকৃত রেজিস্ট্রেশনকৃত অটোরিকশার সূত্র ধরে এবং পুলিশের একাধিক ইউনিট ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
নিহতের পরিচয় ও দাফন
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করার সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যেত না। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। ছাতিয়ানতলা এলাকায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।


