বিনোদন

অভিনয় জানি, কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে অডিশনের ডাক পাই না: কাজী নওশাবা আহমেদ

দৈনিক পূর্বাচল

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা:

বিনোদন অঙ্গনে সিন্ডিকেট, অডিশন না পাওয়ার আক্ষেপ এবং নিজের নতুন নির্মাণ ও অভিনয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ প্রতিবেদন।

অভিনয়ের পর্দা থেকে শুরু করে সামাজিক দায়বদ্ধতায় ব্যতিক্রমী এক স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা কাজী নওশাবা আহমেদ। ক্যামেরার সামনের কাজের বাইরে তার শিল্পীসত্তা ও জীবনের গল্প বেশ বিস্তৃত। সম্প্রতি ‘স্টার স্টোরিজ’ নামের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সমসাময়িক কাজ, নির্মাণ এবং বিনোদন অঙ্গনের নানা অসংগতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

দর্শকের সঙ্গেই শিল্পীর নিবিড় সম্পর্ক

শিল্পীর সঙ্গে দর্শক বা ক্ষমতার কার কী ধরনের সম্পর্ক—এমন প্রশ্নের জবাবে নওশাবা বলেন, “অবশ্যই একজন শিল্পীর আগে নিজের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ থাকে। এরপর শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। শিল্পের সঙ্গে মানেই দর্শকের সঙ্গে বেশি যুক্ত থাকা। আমার কাছে মনে হয়, রাজনীতির বাইরে কেউ নেই। কিন্তু একজন শিল্পীর মূল কাজ দর্শক ও সৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা।”

লবিং ও সিন্ডিকেটের বেড়াজালে অডিশনহীনতা

বিনোদন অঙ্গনে লবিং, গ্রুপিং, সিন্ডিকেট কিংবা স্বজনপ্রীতি নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “এখনো এসবের সম্মুখীন হই। আমার অনেক বেশি ভিউ কিংবা ফলোয়ার নেই। কিন্তু অভিনয় তো জানি। সেই সুবাদে অনেক দিন পর ‘ঝামেলা’ নামের একটি সিনেমায় কাজ করতে পেরেছি। এখন তো অডিশনের কোনো ডাকও আসে না। আদৌ অডিশন নেওয়া হয় কি না, জানি না। আমরা সবক্ষেত্রে চরিত্র অনুযায়ী কাস্টিং করি কি না, সেটি নিয়ে সন্দেহ আছে।”

নতুন সিনেমা ‘ঝামেলা’ ও সহকর্মীরা

সিনেমার নাম ‘ঝামেলা’ হলেও বেশ আনন্দ নিয়েই এর কাজ শেষ করেছেন তিনি। পরিচালক ইয়ামিন ইলানের প্রশংসা করে নওশাবা বলেন, “তিনি খুব ভালো নির্মাতা ও দারুণ গোছানো। কম করলেও তিনি বুঝেশুনে কাজ করেন। ব্যক্তিজীবনে আমরা বন্ধু। ২০১৮ সালে যে অল্প কজন মানুষ আমার সঙ্গে কাজ করেছেন, তিনি অন্যতম।”

‘ঝামেলা’ সিনেমায় একঝাঁক তারকা অভিনয় করেছেন। এতে ডলি জহুর, সাবেরী আলম ও আব্দুল্লাহ রানার পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, তানজিকা আমিন, রাশেদ মামুন অপু, আবু হুরায়রা তানভীর ও ইভান সাইর। সিনেমাটিতে গান গেয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর।

নির্মাণে পথচলা ও ‘সোমেশ্বরী’

পরিচালক হিসেবে নিজের প্রথম ছবি ‘সোমেশ্বরী’ নিয়ে তিনি জানান, ছবিটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে এটি সম্পাদনার টেবিলে রয়েছে। ফিল্মটি তিনি একা নন, যৌথ প্রচেষ্টায় পরিচালনা করেছেন।

নির্মাণে আসার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে নওশাবা বলেন, তার অভিনয় ও নির্মাণ উভয়ের হাতেখড়ি থিয়েটারেই। চারুকলা থেকে পেইন্টিংয়ে মাস্টার্স শেষ করার পর করোনাকাল থেকেই মোবাইল ফোন দিয়ে ছোট ছোট ডকুমেন্টারি বানাতে শুরু করেন। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে একটি ডকুমেন্টারি আটকে আছে। এক্ষেত্রে ‘সোমেশ্বরী’ সিনেমাটিকে তিনি নিজের জীবনের বড় একটি উল্লম্ফন বা লাফ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে পরিচালনা ও অভিনয় করা কঠিন হলেও সঠিক টিম থাকলে যে কোনো কাজ সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

মঞ্চের ‘সিদ্ধার্থ’ ও জীবনের প্রাপ্তি

মঞ্চে আলোচিত নাটক ‘সিদ্ধার্থ’ প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে এই শিল্পী বলেন, “‘সিদ্ধার্থ’ শুধু একটি অভিজ্ঞতা না, এটা আমার কাছে লাইফটাইম। কিছু চরিত্র আমার ডান-বাম অলিন্দে জায়গা করে নিয়েছে। যেমন— ইকড়ি, সোমেশ্বরী, ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী আর সিদ্ধার্থ। এর মধ্যে সিদ্ধার্থ থাকবে সবার আগে। কখনো ভাবতেও পারিনি এই চরিত্র আমাকে এত কিছু দেবে।” আরশীনগরের রেজা আরিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, তার ব্যক্তিজীবনেও ‘সিদ্ধার্থ’ চরিত্রের গভীর প্রভাব ও অবদান রয়েছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment