দৈনিক পূর্বাচল তারিখ: ৭ অক্টোবর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ):
মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক ও দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি আড়িয়াল বিলকে রক্ষায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনের কড়া হুশিয়ারির পরও থামছে না জলাশয় ও কৃষি জমি ভরাট। প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় রাতের আধারে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে নির্বিচারে ভরাট করা হচ্ছে আড়িয়াল বিলের প্রাকৃতিক জলাশয় এবং কেটে নেওয়া হচ্ছে কৃষি জমির উর্বর মাটি।
সরজমিন দেখা গেছে, শ্রীনগর উপজেলার পশ্চিম বাঘড়াখালী এলাকায় খালের পূর্ব পাশে একটি বড় জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। উপজেলা ভূমি অফিস একবার অভিযান চালিয়ে ড্রেজারের কয়েকটি পাইপ নষ্ট করে দিলেও তাতেও কর্ণপাত করছে না চক্রটি।
আড়িয়াল বিলের উত্তর পশ্চিম প্রান্তে বাঘড়াখালী এলাকার ১ একর ৭ শতক আয়তনের গভীর জলাশয়ের প্রায় অর্ধেক ভরাট করা হয়েছে। বাকী অংশ ভরাটের কাজ চলছে দেদার। প্রতিবাদে বাঁধহেদে বালু এনে সারারাত এখানে তা ফেলা হয় নির্ভয়ে। স্থানীয়রা জানান, ড্রেজারের শব্দে রাতে ঘুমানো মুশকিল। ওই এলাকার মো. রমজান নামের এক ব্যক্তি এ জলাশয়টি ভরাট করছেন। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি বাঘড়াখালী এলাকার আজাদ দেওয়ান ও বালু ব্যবসায়ী মো. মকবুল হোসেন।
আজাদ দেওয়ান বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল ভূমি অফিস থেকে ভরাট করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ভূমি অফিস ড্রেজারের পাইপ উচ্ছেদ করে দেওয়ার পর থেকে আমি আর একাজের সাথে নেই। এটা এখন মকবুল করছে। মকবুল হোসেন জানান, টাকার বিনিময়ে তিনি রাতে ভরাট হওয়া মাটির ঘনফুট মেপে দেন মাত্র। এর বাইরে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বাঘড়াখালী ব্রিজে সংলগ্ন এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতে এক দিকে ড্রেজারে চলে বালু ভরাট অপরদিকে কৃষি জমির মাটি কেটে ট্রলারে করে নিয়ে যাওয়া হয় সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটায়। সেখানে উপস্থিত এক কলেজছাত্র জানান, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অবৈধভাবে বালু ভরাটকারী মো. রমজান বলেন, আমি ভরাটের অনুমোদনের জন্য উপজেলায় আবেদন করেছি। কিন্তু তারা এখনো অনুমতি দেননি। তাহলে ভরাট করছেন কেন এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
বাঘড়াখালী ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী মো. নাছির উদ্দিন খান বলেন, একবার এখানে অভিযান চালানো হয়েছিল। এখন যেহেতু আবার চালু করেছে বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন অফিসারকে জানাব। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা বাস্তবায়ন করব। এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়ার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।


