দৈনিক পূর্বাচল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ঢাকার প্রধান সড়কে যানজট কমাতে জোনভিত্তিক রুট, জিও-ফেন্সিং ও নিবন্ধনের আওতায় আসছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। জানুন বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা।
রাজধানীতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে চলাচল করা কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশারই নিবন্ধন নেই। তবে এবার এসব রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট রুট ও জোনের মধ্যে চলাচলের ব্যবস্থা করার জোরালো পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
৮টি জোনে বিভক্ত হবে দুই সিটি করপোরেশন
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে মোট ৮টি জোনে (প্রতিটিতে ৪টি করে) ভাগ করা হবে। প্রতিটি জোনে নির্দিষ্টসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতি মিলবে। তবে একটি জোনের জন্য অনুমোদিত রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে জিপিএস ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি রিকশায় জোনভিত্তিক আলাদা রং এবং নম্বরপ্লেটে নির্দিষ্ট কোড যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফিডার সড়কে চলবে রিকশা, থাকবে না প্রধান সড়কে
মন্ত্রণালয়ের ‘ই-মোবিলিটি ও ব্যাটারি সোয়াপিং সিস্টেম রোল-আউট পরিকল্পনা (ঢাকা শহর)’ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কের পরিবর্তে কেবল ভেতরের ফিডার সড়ক বা অলিগলিতে এসব রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
-
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: মোট সড়ক ২,৬০০ কিলোমিটার (প্রধান সড়ক ৩৫০ কিমি ও ফিডার সড়ক ২,২৫০ কিমি)। উত্তরের ফিডার সড়কগুলোতে প্রাথমিকভাবে ৪ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
-
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: মোট সড়ক ১,৪০০ কিলোমিটার (প্রধান সড়ক ২৩০ কিমি ও ফিডার সড়ক ১,১৭০ কিমি)। দক্ষিণের ফিডার সড়কেও প্রাথমিকভাবে ৪ লাখ রিকশার অনুমোদনের প্রস্তাব রয়েছে।
ফলে দুই সিটি করপোরেশনের ফিডার সড়কে প্রাথমিকভাবে মোট ৮ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
১৫ লাখ রিকশার বিশৃঙ্খলা এড়াতে নজরদারি
পরিকল্পনা নথির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে আনুমানিক ১৫ লাখ এবং রাজধানীর বাইরে আরও প্রায় ৪০ লাখ—সব মিলিয়ে সারা দেশে প্রায় ৫৫ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। প্রধান সড়কে এসব রিকশার অবাধ চলাচলের কারণে প্রায়ই তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে।
এই বিশৃঙ্খলা দূর করতে গত ১৩ ও ৩০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মহোদয়ের সভাপতিত্বে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রিকশার নিবন্ধন, রুট ও জোন নির্ধারণ, চালকদের লাইসেন্স, উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক চার্জিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর দুই স্তরের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা
ব্যাটারিচালিত রিকশার জোনভিত্তিক চলাচল নিশ্চিত করতে দুই স্তরে নজরদারির পরিকল্পনা করা হয়েছে: ১. অনলাইন ব্যবস্থা: জিপিএস ও জিও প্রযুক্তির মাধ্যমে রিকশার রিয়েল-টাইম অবস্থান এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে যাওয়ার বিষয়টি নজরদারি করা হবে। ২. অফলাইন ব্যবস্থা: প্রতিটি জোনের রিকশায় আলাদা রঙ ব্যবহার এবং নম্বরপ্লেটে জোনভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কোড যুক্ত করা হবে, যাতে দৃশ্যমানভাবে সহজেই রিকশাগুলোর জোন শনাক্ত করা যায়।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই সমন্বিত পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট কমবে এবং ব্যাটারিচালিত রিকশাচালনা ও এর ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আসবে।


