দৈনিক পূর্বাচল
লাইফস্টাইল ডেস্ক
সামান্য ক্লান্তি বা অম্বলকে অবহেলা নয়। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কিছু সাধারণ অভ্যাসে পরিবর্তন এনে ক্যানসারের ঝুঁকি কীভাবে কমাবেন, তা জেনে নিন দৈনিক পূর্বাচলের বিশেষ প্রতিবেদনে।
আমাদের শরীরের অজান্তেই কখন যে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ বাসা বাঁধে, তা টের পাওয়া কঠিন। সামান্য ক্লান্তি, ক্রনিক অম্বল, বদহজম বা পেটে ফাঁপার মতো সাধারণ সমস্যাগুলোকে আমরা প্রায়ই কাজের চাপ বা গ্যাস্ট্রিক ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ এগুলোই হতে পারে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের মতো রোগের প্রাথমিক উপসর্গ। চিকিৎসকদের মতে, ছোটোখাটো শারীরিক অস্বস্তিকে অবহেলা না করে দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে ফেলা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যানসার প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনে যে ৫টি পরিবর্তন আনা জরুরি:
১. ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান বর্জন করা
ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া অনেকের জন্যই কঠিন হতে পারে, তবে এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা জরুরি। তামাক বা সিগারেটের ধোঁয়ায় বেঞ্জিন, ফরমালডিহাইড ও নাইট্রোসামিনের মতো প্রায় ৭০টিরও বেশি কার্সিনোজেন বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে। এগুলো কোষের ডিএনএ গঠনে বাধা সৃষ্টি করে এবং জিনগত পরিবর্তন ঘটায়, যা ক্যানসার কোষ সৃষ্টির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। তাই ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান— উভয় থেকেই দূরে থাকা শ্রেয়।
২. ঘুমানোর সঠিক নিয়ম মেনে চলা
গবেষণায় দেখা গেছে, রাত ১১টার মধ্যে ঘুমাতে যাওয়া শরীরের জৈবিক ঘড়ির জন্য অত্যন্ত উপকারী। কারণ, রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে শরীর নিজে থেকেই ডিএনএ মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করুন এবং শোওয়ার ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখুন। মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামান্য নীল আলোও মেলাটোনিন হরমोनের নিঃসরণ বন্ধ করে দিতে পারে। অথচ এই মেলাটোনিন হরমোনই যেকোনো টিউমার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন রোধ করতে দারুণ কার্যকরী।
৩. খাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনা
খাবারের সময় ও বিরতির ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা (বা কম করে ১০ ঘণ্টা) পেট ফাঁকা বা খালি রাখার চেষ্টা করুন। যেমন— রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে পরদিন সকাল ৮টা বা ১০টার মধ্যে সকালের নাস্তা করা। এই বিরতির সময় শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ বা স্বয়ংক্রিয় পরিচ্ছন্নতা প্রক্রিয়া চলে, যা কোষের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিন ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
৪. প্লাস্টিক ও নন-স্টিক বাসনের ব্যবহার কমানো
প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রে গরম খাবার খাওয়া এবং নন-স্টিক বাসন ব্যবহারের অভ্যাস কমানো উচিত। এর বদলে লোহা বা স্টেইনলেস স্টিলের বাসন ব্যবহার করা নিরাপদ। প্লাস্টিক ও নন-স্টিক বাসনে থাকা বিসফেনল-এ (BPA), থ্যালেট এবং পিএফএএস (PFAS)-এর মতো রাসায়নিকগুলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে সহায়তা করে। এর ফলে স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় ও থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
৫. অ্যালকোহলের মাত্রা কমানো
অ্যালকোহল যখন শরীরে বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে ভাঙে, তখন তা ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামক এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগে পরিণত হয়, যা ডিএনএ প্রোটিনের মারাত্মক ক্ষতি করে। পাশাপাশি, এটি শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। তাই অ্যালকোহল বর্জন করা কিংবা এর মাত্রা সীমিত রাখলে লিভার, মুখ, গলা, খাদ্যনালী, অগ্ন্যাশয়, স্তন এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।


