অন্যান্য

মলদ্বারে ফিস্টুলা কী? কারণ, লক্ষণ এবং এর আধুনিক চিকিৎসা | দৈনিক পূর্বাচল

স্বাস্থ্য ডেস্ক | দৈনিক পূর্বাচল

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬

মলদ্বারের ফিস্টুলা কেন হয়, এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী এবং এর আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন। পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

মানবদেহের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হলো ‘অ্যানাল ফিস্টুলা’ বা মলদ্বারের ফিস্টুলা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এটি মূলত মলদ্বারের অভ্যন্তরীণ কোনো সংক্রমিত অংশ বা ফোড়ার সাথে বাইরের ত্বকের সংযোগকারী একটি অস্বাভাবিক সুড়ঙ্গ বা নালি। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করা হলে এই সমস্যা ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

আমেরিকান সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেকটাল সার্জনস (ASCRS)-এর সাম্প্রতিক ক্লিনিক্যাল নির্দেশিকায় ফিস্টুলার কারণ, লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

ফিস্টুলা কেন হয়?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মলদ্বারের ভেতরের গ্রন্থিতে ইনফেকশন বা সংক্রমণ এবং পরবর্তীতে সেখানে ফোড়া তৈরি হওয়াই ফিস্টুলার প্রধান নেপথ্য কারণ। তবে এর বাইরেও বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা এর জন্য দায়ী থাকতে পারে। যেমন—

  • অন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ (ক্রোনস ডিজিজ)

  • শরীরের ওই অংশে অতীতে কোনো ধরনের আঘাত পাওয়া

  • পেটে বা অন্ত্রে যক্ষ্মা বা অন্যান্য জটিল সংক্রমণ

  • রেডিওথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • মলদ্বার বা তার আশপাশের অঞ্চলে ক্যানসারের উপস্থিতি

সব রোগীর ক্ষেত্রে কারণ এক না হওয়ায় সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

ফিস্টুলা শনাক্ত করার প্রধান লক্ষণসমূহ

মলদ্বারে ফিস্টুলা তৈরি হলে সাধারণ কিছু উপসর্গ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে রয়েছে:

  • মলদ্বারের চারপাশ ঘন ঘন ফুলে যাওয়া এবং তীব্র বা মৃদু ব্যথা অনুভব করা

  • মলদ্বারের আশপাশের ত্বকে ছোট ছিদ্র দিয়ে পুঁজ, দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তাক্ত তরল নিঃসরণ হওয়া

  • মলত্যাগ করার সময় অতিরিক্ত কষ্ট বা ব্যথা হওয়া

  • ত্বকে স্থায়ী জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি

  • অনেক সময় ফোড়া ফেটে পুঁজ বেরিয়ে গেলে ব্যথা সাময়িকভাবে কমলেও সংক্রমণ ভেতরেই রয়ে যায়।

রোগ নির্ণয় পদ্ধতি

রোগীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মলদ্বারের বাহ্যিক মুখ, পুঁজ বা তরলের উৎস এবং নালির গভীরতা বোঝার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। ক্ষেত্রবিশেষে নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের জন্য অ্যানোস্কপি, আলট্রাসাউন্ড বা এমআরআই পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। জটিল কেসের ক্ষেত্রে এনেস্থেশিয়ার আওতায় বিস্তারিত পরীক্ষার পাশাপাশি কোলনোস্কপির মাধ্যমে পেছনের মূল কারণ (যেমন যক্ষ্মা বা ক্রোনস ডিজিজ) শনাক্ত করা হয়।

ফিস্টুলার চিকিৎসা ও করনীয়

চিকিৎসকদের মতে, অ্যানাল ফিস্টুলা সাধারণত ওষুধে নিজে নিজে পুরোপুরি ভালো হয় না। এর স্থায়ী নিরাময়ের জন্য প্রায় ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। ফিস্টুলার গভীরতা ও অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারিত হয়:

  1. ফিস্টুলোটমি: তুলনামূলক সহজ ফিস্টুলার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে নালিটি কেটে খুলে দেওয়া হয়, যাতে এটি ভেতর থেকে প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে যায়।

  2. সেটন ড্রেন: জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে পেশি সুরক্ষায় বিশেষ ড্রেন বা ‘সেটন’ ব্যবহার করা হয়।

  3. আধুনিক থেরাপি: ক্রোনস ডিজিজজনিত ফিস্টুলার চিকিৎসায় সাধারণ পদ্ধতির পাশাপাশি বিশেষায়িত ওষুধ ও ক্ষেত্রবিশেষে স্টেম সেল থেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা বিবেচনা করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কুসুম গরম পানিতে বসা (সিটজ বাথ), মল নরম রাখার ওষুধ সেবন এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা সম্ভব। মলদ্বারে বারবার ফোড়া বা পুঁজ পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে কোলোরেকটাল সার্জন বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment