দৈনিক পূর্বাচল
নিজস্ব প্রতিবেদক, সখীপুর (টাঙ্গাইল):
টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাকে ‘আন্টি’ ডাকার কারণে সাড়ে তিন বছরের শিশুপুত্র আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মা আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে। আহত হয়েছে আরও এক শিশু।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে তিন বছরের শিশুপুত্র আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এই রোমহর্ষক ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে আরও এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়া বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। আহত শিশু সিদরাতুল অভিযুক্ত আকলিমা বেগমের আগের ঘরের মেয়ে। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
যে কারণে ক্ষোভের সন্দেহ
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। সেই সংসারে কোনো সন্তান না থাকায় প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ও উদ্যোগে তিনি আকলিমা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমার ঘরেই জন্ম নেয় শিশু আশরাফুল।
তবে আকলিমা বেগম ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করায় অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুবাদে শিশু আশরাফুলকে বড় করেন শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তার। শিশুটি নাসিমাকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত এবং জন্মদাত্রী মা আকলিমা বেগমকে ডাকত ‘আন্টি’ বলে। স্থানীয় অনেকের ধারণা, নিজের সন্তান হয়েও মায়ের মুখে ‘আন্টি’ ডাক শোনার জেরে আকলিমার মনে তীব্র অভিমান বা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বড় ধরনের পারিবারিক কলহ ছিল না। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
বাবার আকুতি ও বিচার দাবি
শোকার্ত বাবা শাহীন মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর অপেক্ষার পর আল্লাহর রহমতে একটি পুত্রসন্তান পেয়েছিলাম। কিন্তু সেই বুকজুড়ে থাকা সন্তানকেই তার নিজের মা এভাবে কেড়ে নিল! শুধু আমার সুপ্ত আশরাফুল নয়, আমার আগের ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও সে কুপিয়ে জখম করেছে।’ তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু আশরাফুলকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে শিশুটির মরদেহ হাসপাতালেই রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন ‘দৈনিক পূর্বাচল’-কে জানান, ঘটনাস্থলটি সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী সীমানা এলাকায় অবস্থিত। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্ত মাকে সখীপুর থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সাড়ে তিন বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর এমন নৃশংস মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


