প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬
ইরানের লারাক দ্বীপে আবারও মার্কিন হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো আগ্রাসনের মুখে তেহরান নীরব বসে থাকবে না। এ হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বাড়ার খবর এসেছে।
সোমবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রওনা হওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেছেন। ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান ইরানের ওপর হামলার কঠোর জবাব দেওয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও সংঘাত কোনো দেশের স্বার্থের জন্য ভাল নয়। এতে পুরো অঞ্চলই নতুন সংকটে পড়বে।
এর আগে, রবিবার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জর্ডানে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে।
জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে ইরানের খার্গ দ্বীপে বোমা হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
ভিডিওতে একটি যুদ্ধবিমান থেকে নিচে তেলের সংরক্ষণাগার ও একটি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়। পোস্টের সঙ্গে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খার্গ দ্বীপ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’
খার্গ দ্বীপ যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র ছিল। তাই দ্বীপটি দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প কয়েকবার দ্বীপটি দখল বা ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন।
তবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা-পাল্টা হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৬১ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম বেড়ে হয়েছে ৮৫ দশমিক ৫৩ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছয় মাসে গড়ানোর সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন উত্তেজনাই তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
এর মধ্যেই আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা।
ইরানের ফারস ও মেহের বার্তা সংস্থা আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি দূরপাল্লার মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে গুলি করে ভূপাতিত করে। পরে ড্রোনটি পারস্য উপসাগরে পড়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ দাবি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স


