প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল মোছা. ফাতেমা খানমের। সেই স্বপ্নের পথে এগোতে মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে পড়াশোনার প্রাথমিক খরচ জোগাড় করতে না পারায় একসময় তার সেই স্বপ্নই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সরকারি সহায়তায় কাটল সেই অনিশ্চয়তা।
ফাতেমার মেডিকেল শিক্ষার পথ সুগম করতে এগিয়ে এসেছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তার উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ফাতেমার জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাতেমার হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন তারেক রহমান।
শুধু তাৎক্ষণিক এই সহায়তাই নয়, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ভবিষ্যতে আরও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এই আশ্বাস ফাতেমার বহুদিনের স্বপ্নকে দিয়েছে নতুন ভরসা— এখন তার সামনে খুলে যাচ্ছে চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।
ফাতেমা নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা কাকফো গ্রামের মো. লাভলু খানের মেয়ে। পড়াশোনায় বরাবরই মেধার পরিচয় দিয়ে এসেছেন তিনি। জিগরী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ এবং পরে টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৬৭ অর্জন করেন।
এই ফল ও নিজের স্বপ্নকে সঙ্গী করেই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফাতেমা। চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার পর তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন আরও বাস্তব হয়ে উঠেছিল।
সহায়তা পাওয়ার পর ফাতেমা জানালেন, মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাওয়ার পরও অর্থের অভাবে যখন স্বপ্ন পূরণ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন, তখন এই সহযোগিতা তার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
ফাতেমার স্বপ্নপূরণের এই পথে পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তার ভাষ্য, ‘ফাতেমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যেন শুধু অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সেটিই তাদের লক্ষ্য।’
প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া এই সহায়তা ফাতেমার মেডিকেল শিক্ষার পথ কিছুটা সহজ করবে।’ তিনি আশা করেন, ফাতেমা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে একজন দক্ষ চিকিৎসক হয়ে উঠবেন এবং একদিন দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন।


