মুখোমুখি কেইন ও হালান্দ, কার হাতে উঠবে সেমিফাইনালের টিকিট?দৈনিক পূর্বাচল

ক্রীড়া ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। সেমিফাইনালের টিকিট ও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে হ্যারি কেইন বনাম আর্লিং হালান্দের মেগা দ্বৈরথের বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবলবিশ্ব সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফুটবল মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। তবে দলগত লড়াই ছাপিয়ে এই ম্যাচটি রূপ নিয়েছে আধুনিক ফুটবলের দুই সেরা ‘গোলমেশিন’ হ্যারি কেইন এবং আর্লিং হালান্দের এক চরম দ্বৈরথে।

ভাগ্যের চাকা ও বদলে যাওয়া আখ্যান

২০২১ সালের আগস্টে যখন ম্যানচেস্টার সিটিতে হ্যারি কেইনের বহুল আলোচিত দলবদল ভেস্তে যায়, ঠিক তার পরের গ্রীষ্মে সিটিতে আসেন নরওয়েজিয়ান দানব আর্লিং হালান্দ। এসেই সিটিকে ট্রেবল জেতান হালান্দ। অন্যদিকে টটেনহ্যামের তৎকালীন অধিনায়ক কেইনের ঝুলিতে তখন কোনো ট্রফি ছিল না, অনেকেই তাকে ‘খালি হাতের অধিনায়ক’ বলে খোঁচা দিতেন।

তবে সময় বদলেছে, বদলে গেছে আখ্যানও। ২০২৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর হ্যারি কেইন এখন আর ট্রফিহীন আক্ষেপের নাম নন। বায়ার্নের হয়ে ইতিমধ্যেই দুবার বুন্দেসলিগা জেতার পাশাপাশি ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু’ নিজের করে নিয়েছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। বায়ার্নের জার্সিতে ১৪৭ ম্যাচে ১৪৬ গোল করা কেইন এখন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন।

গোল্ডেন বুটের জমজমাট লড়াই

চলতি বিশ্বকাপে গোল করার দিক থেকে দুজনই আছেন বিধ্বংসী ফর্মে। মেক্সিকোর বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে গোল করে ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার পাশাপাশি বায়ার্ন কিংবদন্তি গের্ড মুলারের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকে স্পর্শ করেছেন কেইন。 এই টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই তাঁর গোল সংখ্যা ৬টি।

অন্যদিকে লিডসে জন্মগ্রহণ করলেও নরওয়ের জার্সিতে মাঠ কাঁপানো আর্লিং হালান্দ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম অংশগ্রহণেই করে ফেলেছেন ৭ গোল! টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তো বটেই, নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসেও মাত্র ২৬ বছর বয়সে ৬২ গোল করে তিনি দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ডও নিজের করেছেন হালান্দ।

কার হবে শেষ হাসি?

শনিবারের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে একদিকে থাকবে কেইনের অভিজ্ঞতা, দুর্দান্ত ভিশন ও দলের প্রয়োজনে নকআউট পর্বে জ্বলে ওঠার অসাধারণ ট্র্যাক রেকর্ড। অন্যদিকে থাকবে হালান্দের অতিমানবীয় গতি, শক্তি ও টানা ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা। দেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এই লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবেন—কেইন নাকি হালান্দ? উত্তর মিলবে মাঠের যুদ্ধেই।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   6   =