‘মুখ ও মুখোশ’-এর নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তা যেভাবে হয়েছিলেন কিংবদন্তি জসিমের শাশুড়ি

বিনোদন প্রতিবেদক || দৈনিক পূর্বাচল

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬ |

ঢাকাই সিনেমার প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তা ও ঢালিউডের কিংবদন্তি অ্যাকশন হিরো জসিমের পারিবারিক সম্পর্কের এক অজানা ইতিহাস। পড়ুন দৈনিক পূর্বাচল-এ।

ঢাকা: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস বললেই সবার আগে যে নামটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তা হলো ‘মুখ ও মুখোশ’। ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পাওয়া এই ছবিটিই ছিল এ দেশের সেলুলয়েডের ফিতায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র। আব্দুল জব্বার খান পরিচালিত ও ইকবাল ফিল্মসের প্রযোজনায় নির্মিত এই ইতিহাসজয়ী সিনেমাটির পেছনে রয়েছে যেমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছোঁয়া, তেমনই রয়েছে রুপালি পর্দার এক কিংবদন্তি পরিবারের অজানা পারিবারিক মেলবন্ধন।

শেরে-বাংলা ও ইস্কান্দার মির্জার হাত ধরে যাত্রা

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৫৪ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন বিখ্যাত শাহবাগ হোটেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর ইস্কান্দার মির্জা। এর ঠিক দুই বছর পর, ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার মুকুল টকিজে (যা পরবর্তী সময়ে ‘আজাদ সিনেমা হল’ নামে পরিচিতি পায়) ছবিটির প্রথম প্রদর্শনী ও আনুষ্ঠানিক মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির সেই বিশেষ দিনটিতে চলচ্চিত্রটির শুভ উদ্বোধন করেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন জনপ্রিয় গভর্নর শেরে-বাংলা এ কে ফজলুল হক। তৎকালীন মুদ্রায় সিনেমাটি বক্স অফিস থেকে প্রায় ৪৮,০০০ রুপি আয় করতে সক্ষম হয়েছিল।

পূর্ণিমা সেনগুপ্তা থেকে পারভীন বানু

‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করে ইতিহাসের পাতায় প্রথম নায়িকা হিসেবে নাম লেখান চট্টগ্রামের মেয়ে পূর্ণিমা সেনগুপ্তা। তবে চলচ্চিত্র মুক্তির কয়েক বছর পর, ১৯৬২ সালে এই অভিনেত্রীর জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। তিনি তৎকালীন সময়ের নামী ব্যবসায়ী ও চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ নাসিরকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি সনাতন ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘পারভীন বানু’। বিয়ের পর সংসার ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় রূপালি পর্দা থেকে চিরতরে দূরে সরে যান তিনি।

জসিমের শাশুড়ি ও এক পারিবারিক ইতিহাস

অনেকেরই হয়তো জানা নেই, নব্বই দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নাসরিন হলেন এই পূর্ণিমা সেনগুপ্তা তথা পারভীন বানুরই সুযোগ্য কন্যা। মায়ের পথ ধরে নাসরিনও ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। আর এই নাসরিনই পরবর্তী সময়ে গাঁটছড়া বাঁধেন বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অ্যাকশন হিরো ও শক্তিমান অভিনেতা জসিমের সঙ্গে।

সেই সূত্রে, ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসের প্রথম সবাক চলচ্চিত্রের প্রথম নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তা (পারভীন বানু) ছিলেন কিংবদন্তি চিত্রনায়ক জসিমের শাশুড়ি! চলচ্চিত্রের প্রথম যুগের সঙ্গে পরবর্তী বাণিজ্যিক সোনালী যুগের এই পারিবারিক সংযোগ এ দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম এক রোমাঞ্চকর ও সুন্দর অধ্যায় হয়েই থাকবে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   5   =