শিল্পী সমিতিতে ‘নিপুণের কালো হাত’

প্রকাশের সময়: ০৮ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১২:১৫

বিভাগ: বিনোদন / ঢালিউড

বিশেষ প্রতিবেদন: সোহেল হাওলাদার

ঢালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী নিপুণের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন নায়িকা পলি ও কাকন। রাজনৈতিক প্রভাব, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ‘নিপুণের কালো হাত’ ও অর্থ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে পড়ুন বিস্তারিত

বিনোদন ডেস্ক: ঢালিউডের এক সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী নিপুণ আক্তারের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের দুই পরিচিত মুখ নায়িকা পলি ও কাকন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিপুণের একচ্ছত্র প্রভাব খাটানো, বিপুল সম্পদ অর্জন এবং সর্বশেষ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে ‘নিপুণের কালো হাত’ ব্যবহার করে নির্বাচন কলুষিত করার নানা চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তারা।

‘রিকশাওয়ালার প্রেম’ ও ক্যারিয়ারের শুরু

অভিযোগকারীদের দাবি, ‘রিকশাওয়ালার প্রেম’ সিনেমার মাধ্যমে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে পা রাখেন নিপুণ আক্তার। তৎকালীন সময়ে একজন প্রভাবশালী আইনি ব্যক্তিত্বের (ব্যারিস্টার জহির) প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা ও তার প্রযোজনায় এই চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান তিনি। এরপর ‘জমিদার বাড়ির মেয়ে’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেন। তবে অভিনয়ের চেয়ে পর্দার আড়ালের রাজনৈতিক যোগাযোগই তাকে দ্রুত আলোচনায় নিয়ে আসে বলে দাবি করেন পলি ও কাকন।

রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদের পাহাড়

পলি ও কাকন তাদের অভিযোগে সরাসরি উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিপুণ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা শেখ সেলিমের ঘনিষ্ঠতা লাভ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি—এই রাজনৈতিক ‘শেল্টার’ ব্যবহার করে নিপুণ রাতারাতি বিপুল বৈভবের মালিক বনে যান। ঢাকায় বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি এবং অভিজাত বিউটি পার্লারসহ অঢেল সম্পদের মালিকানা অর্জনের পেছনে এই রাজনৈতিক প্রভাবই মূল ভূমিকা পালন করেছে। তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের ক্ষমতার দাপটে চলচ্চিত্র অঙ্গনেও তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন।

শিল্পী সমিতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য ও কলুষতা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে নিপুণের প্রবেশ এবং পরবর্তী সময়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার বসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। পলি ও কাকন অভিযোগ করেছেন, সাংগঠনিক নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে শিল্পী সমিতিতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন নিপুণ এবং পুরো সংগঠনকে নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কলুষিত করেছেন।

সর্বশেষ নির্বাচনে ‘নিপুণের কালো হাত’ ও টাকা ছড়ানোর প্রমাণ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি শেষ হওয়া চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। পলি ও কাকনের দাবি, এই নির্বাচনেও পর্দার আড়াল থেকে কলুষিত ভূমিকা পালন করেছে ‘নিপুণের কালো হাত’। নিপুণের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেসমিনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা ছড়িয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের পাশ করানোর চেষ্টা ও কারচুপি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও চলচ্চিত্র পাড়ায় এই সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ ও অডিও-ভিডিও ক্লিপের উপস্থিতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

এসব বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে নিপুণ আক্তারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পলি ও কাকনের এমন সরাসরি দাবির পর চলচ্চিত্র পাড়ায় নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিল্পী সমিতির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দুর্নীতি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 0   +   1   =