দৈনিক পূর্বাচল
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
রাজধানীর বারিধারায় নীরব জীবন কাটাচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা শবনম। এ বছর তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন
ঢাকা: বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি ও নন্দিত নায়িকা শবনম বর্তমানে রাজধানীর বারিধারার পার্ক রোডের নিজ বাসভবনে বেশ শান্ত ও নীরব জীবন কাটাচ্ছেন। বিগত কয়েক দশকের জীবনযাপন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, নিয়মিত টেলিভিশন দেখা, পত্রিকা পড়া, ফেসবুক স্ক্রল করা, মাঝে মাঝে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং কখনো সখনো দেশের বাইরে ঘুরে আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ তার দৈনন্দিন জীবন।
তবে প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ও স্বামী রবিন ঘোষের প্রয়াণের পর তিনি আরও বেশি ঘরমুখী ও একাকী হয়ে পড়েছেন বলে জানান। মন চাইলেও আগের মতো কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না তার।
সোনার টুকরা ছেলেকে নিয়ে গর্বিত শবনম
আজ এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর একমাত্র সন্তান রনির জন্মদিন। দিনটি ঘিরেই নানা অনুভূতির কথা শেয়ার করেন তিনি। শবনম বলেন, “অনেকে ভেবেছিলেন হয়তো আমাকে একাই থাকতে হবে দেশে। কিন্তু সবার ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে রনি আমার সঙ্গেই থেকে গেছে। ও চাইলেই দেশের বাইরে চমৎকার জীবন গড়ে তুলতে পারত; কিন্তু একজন আদর্শ সন্তান হিসেবে সে আমার পাশেই আছে।”
বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদের নানা অসংগতিপূর্ণ খবরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “আজকের দিনে মা-বাবার অবাধ্য সন্তানদের নানা খবর সংবাদমাধ্যমে দেখি। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে আমার রনি একটি ‘সোনার টুকরা’ ছেলে। একজন মা হিসেবে তাকে নিয়ে আমি দারুণ গর্বিত।”
চলচ্চিত্রে ফেরা নিয়ে যা বললেন
শারীরিক অসুস্থতার কারণে রূপালি পর্দায় আর কখনোই ফেরা হবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন এই বরেণ্য অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “শরীরের স্বাস্থ্য এখন আর আগের মতো ভালো নেই। কোনো না কোনো অসুস্থতা লেগেই থাকে। তাই হয়তো এই জীবনে আর কোনো সিনেমায় অভিনয় করা হবে না।” উল্লেখ্য, কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমাটি ছিল তার অভিনয়জীবনের সর্বশেষ কাজ।
চলচ্চিত্রাঙ্গনে দীর্ঘ ও বর্ণিল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ‘আজীবন সম্মাননা’-এ ভূষিত হতে যাচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই অবিসংবাদিত তারকা।


