দৈনিক পূর্বাচল ডেস্ক:
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৬ জনসহ ১০ জন নিহত। ফায়ার সার্ভিসের ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে। রিসোর্ট ম্যানেজার আটক।
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁ’য় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ম্যানেজারকে থানায় নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সঠিক কারণ ও আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাটুয়ারটেক এলাকার ওই রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিসের টিমগুলোর প্রায় চার ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জনসহ মোট ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ও জেলা সদরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের স্বজন আবদুল আহাদ সরকার জানান, তাদের শনিবার সকালেই ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। ভোরে আগুন লাগার সময় অতিথিরা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় দ্রুত বের হতে পারেননি। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন নারী, একজন পুরুষ এবং পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুসহ ছয়জন স্বজন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে পরিচয় জানা গেছে— ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী, ফারিহা কবির (৩৩) এবং শিশু ফাইয়াজ আহম্মেদ (৫)।
অপরদিকে আহতদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিসা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেছা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের স্থান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিখুঁতভাবে নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।


