APORAD

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রেকর্ড দুর্নীতি: কিলোমিটারে খরচ ১,১২৭ কোটি, নেপথ্যে বড় সিন্ডিকেট

আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ১,১২৭ কোটি টাকা! জালিয়াতি ও শত শত কোটি টাকা লুটে সোহেল হাওলাদারের বিশেষ অনুসন্ধান

 সোহেল হাওলাদার (নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল):

চীনের চেয়েও ৩ গুণ বেশি খরচে নির্মিত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ২৩২ কোটি টাকারও বেশি জালিয়াতির প্রমাণ। দৈনিক পূর্বাচল নির্বাহী সম্পাদক সোহেল হাওলাদারের বিশেষ প্রতিবেদন।

চীনের ইবিন-পানঝিহুয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্গম পাহাড় কেটে উড়াল সড়ক নির্মাণ করতে কিলোমিটারপ্রতি খরচ হয়েছে ৩৬৫ কোটি টাকা। ভারতের আট লেনের বিশ্বখ্যাত দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়েতে কিলোমিটারপ্রতি লেগেছে ৩২০ কোটি টাকা, আর ইন্দোনেশিয়ার শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ এক্সপ্রেসওয়েতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হয়েছে ৩৯০ কোটি টাকা। অথচ বাংলাদেশে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে কিলোমিটারপ্রতি অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা!

বিদেশের যেকোনো আধুনিক মেগা অবকাঠামোর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্প ঘিরে তৈরি হয়েছে তোলপাড়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দফায় দফায় নকশা ও বাজেট পরিবর্তন করে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অকাট্য তথ্য সামনে এসেছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই মেগা দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে। জাতীয় সংসদেও সেতুমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, প্রকল্পের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ অনুসন্ধানে কাজ করছে দুদক।

দৈনিক পূর্বাচল-এর বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর চিত্র। মূলত প্রকল্পের ভূমি ও অবকাঠামো অধিগ্রহণের দায়িত্বে থাকা একটি প্রভাবশালী কর্মকর্তা সিন্ডিকেট অভিনব উপায়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে শত শত কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এই সংঘবদ্ধ চক্রের প্রধান ক্রীড়নক ছিলেন গণপূর্ত সাভার সার্কেলের তৎকালীন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। তার সাথে হাত মিলিয়েছিল ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের এল.এ (ভূমি অধিগ্রহণ) শাখা এবং সড়ক ভবনের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা। প্রাথমিক নথিপত্র বিশ্লেষণে অন্তত ২৩২ কোটি টাকা সরাসরি আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে, তবে দুদকের মতে ভুয়া অধিগ্রহণের হিসাব কষলে এই দুর্নীতির অঙ্ক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৌশলী মিজানুর রহমান আশুলিয়া, বাইপাইল ও ইপিজেড অংশে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও অবকাঠামো পরিমাপ এবং ক্ষতিপূরণের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ডিসি অফিসের এল.এ শাখার কর্মকর্তাদের সাথে যৌথ পরিদর্শনের সুযোগ নিয়ে শতাধিক অবকাঠামোর পরিমাপে জালিয়াতি করেন। কোথাও প্রকৃত মূল্যের ৫ থেকে ১০ গুণ বাড়িয়ে মূল্যায়ন (ভ্যালুয়েশন) করা হয়েছে, আবার কোথাও এক্সপ্রেসওয়ের মূল নকশা থেকে ২০-৩০ ফুট দূরে অবস্থিত ভবনকেও ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব ভুয়া ক্ষতিপূরণের বিপরীতে ভূমি মালিকদের থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় এবং ভুয়া নামের অ্যাওয়ার্ড বানিয়ে সরাসরি সরকারি টাকা পকেটে পুরেছে এই চক্র।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment