মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজে মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে দ্বাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের সহপাঠী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে মুলাদী সরকারি কলেজ চত্বরে মর্মান্তিক ও লাঞ্ছনাদায়ক এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় রবিবার (১৮ ১৮ অক্টোবর) নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী। এদিকে ঘটনা তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর সঙ্গে তাঁদের এক সহপাঠীর দীর্ঘদিন ধরে সুসম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য ও কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী ওই সহপাঠীর মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সহপাঠী গত বৃহস্পতিবার অন্য এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তাঁদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে বের করেন।
পরবর্তীতে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাছরিন আক্তারসহ কয়েকজন বহিরাগত কলেজ চত্বরে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা তাঁদের চুল ধরে টানাটানি করে, পেটে লাথি মারে এবং কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁদের জুতাপেটা করা হয় এবং পোশাক ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি ও লাঞ্ছিত করা হয়। এমনকি কলেজে আসা- যাওয়া ও পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজ প্রাঙ্গণে কয়েকজন তরুণী ও ছাত্রী তুমুল বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানাটানি, চড়-থাপ্পড় ও জুতাপেটা করতে দেখা যায়।
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ভুক্তভোগী এক ছাত্রী জানান, তাঁরা কলেজে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার জানান, ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ। বিষয়টি নিরসনে কলেজের অধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান সমাধান করতে ব্যর্থ হলে উপজেলা প্রশাসন থেকে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের জন্য দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


