রাজনীতি

মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | দৈনিক পূর্বাচল

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক পূর্বাচল:

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি।

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “দৃশ্যত স্বাস্থ্যবান বা নীরোগ থাকাটাই প্রকৃত স্বাস্থ্য নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার নামই স্বাস্থ্য। তাই কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।”

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্বজুড়ে উদযাপিত এই দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’।

‘মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয় ও কুসংস্কার দূর করতে হবে’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে সমাজে বিদ্যমান ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “কাউকে তার মানসিক সমস্যার জন্য অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তার কথা শুনতে হবে, পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ সহজ করতে হবে। ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা ও গ্রহণ করাই প্রকৃত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত।”

দোরগোড়ায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যেখানে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব পাবে। এই লক্ষ্যে উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে মানসিক সেবার পরিধি বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়া, প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান, গর্ভবতী মা ও শিশু-কিশোরদের মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতা রক্ষা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও সমাজের প্রতি আহ্বান

মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে মানুষের কথা শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকতে হবে।” পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার ও সমাজের যৌথ প্রচেষ্টায় এমন একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবে না এবং প্রতিটি মানুষ মর্যাদা ও সুস্থতার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment