রাজনীতি

পদ্মায় দ্বিতীয় সেতু নির্মাণে প্রস্তুতি শুরু, নির্বাচনের আগেই কাজের লক্ষ্যের কথা জানাল সরকার | দৈনিক পূর্বাচল

দৈনিক পূর্বাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই পদ্মায় দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করতে চায় সরকার। চলছে সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা।

পদ্মা নদীর বুকে আরেকটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সমীক্ষাসহ অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ, সম্ভাব্য অর্থায়ন ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন দেশ ও ঋণদাতা সংস্থার সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এরই মধ্যে চীনের পক্ষ থেকে এতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সমীক্ষার জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২০০৩-০৫ সালে জাইকার (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা) করা আগের সমীক্ষার তথ্যকে ভিত্তি করে এবং এর সঙ্গে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া অংশ যুক্ত করে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দিক থেকে প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ বড় প্রকল্পের ঋণ নিশ্চিত করতে ৩ থেকে ৬ বছর সময় লাগলেও, বর্তমান গতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিবিএ সূত্র জানায়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য অন্তত তিনটি ভিন্ন অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ‘ওয়াই’ আকৃতির সেতুতে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও পাবনায় তিনটি প্রান্ত রাখার ধারণা রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ১২ কিলোমিটার। এছাড়া পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার মধ্যে সেতুর দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা গেলে প্রকল্পের ব্যয় কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চূড়ান্ত অ্যালাইনমেন্ট এবং রেললাইন যুক্ত হবে কি না, তা সমীক্ষার ফল ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি টেকসই পরিকল্পনা ও পার্শ্ববর্তী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি, যাতে প্রকল্পগুলো থেকে জনগণ পূর্ণ সুফল পেতে পারে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment