অন্যান্য

আদিম মানুষের জীবন থেকে শিখুন ভালো ঘুমের ৫ উপায়

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক/ দৈনিক পূর্বাচল

আমাদের শিকারী-সংগ্রাহক পূর্বপুরুষরা কীভাবে ঘুমাতে—এ নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণাই এখন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অনেকেই মনে করতেন তারা গোধূলি থেকে ভোর পর্যন্ত টানা ঘুমাতেন, যা সঠিক নয়। তবে আধুনিক যুগেও যেসব আদিম ও যাযাবর সমাজ টিকে আছে, তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে গবেষণা করে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। মানব বিবর্তনের প্রায় ৯৫ শতাংশ জুড়েই মানুষ যেভাবে ঘুমিয়েছে, তার সেরা প্রমাণ পাওয়া যায় এই ফোরাজিং বা শিকারী সমাজগুলোতে।

সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের বিষয় হলো, এসব সমাজের মানুষেরা খুব কম সময়ই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) স্লিপ বিজ্ঞানী জেরোম সিগেল তানজানিয়ার হাদজা, বলিভিয়ার তিসমানে এবং নামিবিয়ার সান সম্প্রদায়ের মানুষের ঘুমের ধরন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি জানান, আদিবাসীদের তাদের মাতৃভাষায় যদি প্রশ্ন করা হয়—‘তোমাদের কখনো ঘুমোতে সমস্যা হয় কি না?’, তবে তারা এই ধারণাই বুঝতে পারে না। অথচ শিল্পোন্নত দেশের মানুষের তুলনায় তারা কম ঘুমায় এবং রাতে বেশি জেগে ওঠে।

তাহলে তাদের এই শান্তির ঘুমের আসল রহস্য কী? প্রাচীন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সেই ৫টি কার্যকর ঘুমের কৌশল, যা আধুনিক মানুষও নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতে পারে:

১. প্রাকৃতিক আলোর সঙ্গে মানিয়ে চলা:

আদিম সমাজের মানুষেরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে দিন ও রাতের চক্রের সঙ্গে অভ্যস্ত। সূর্যোদয়ের সঙ্গে ঘুম থেকে ওঠা এবং সূর্যাস্তের পর আলো কমিয়ে শান্ত পরিবেশে চলে যাওয়ার জীবনধারা তাদের শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ঘুমাতে সাহায্য করে। কৃত্রিম নীল আলো বা স্ক্রিনের ব্যবহার না থাকায় তাদের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা অভ্যন্তরীণ ঘড়ি অত্যন্ত নিখুঁত থাকে।

২. শারীরিক পরিশ্রম ও সক্রিয় জীবন:

শিকার ও সংগ্রহের জন্য আদিবাসীদের সারাদিন প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়। পেশির এই ক্লান্তি এবং শারীরিক সক্রিয়তা তাদের রাতে বিছানায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রাকৃতিকভাবে গভীর ও গাঢ় ঘুমে নিয়ে যায়। আধুনিক মানুষের অলস জীবনযাত্রার বিপরীতে কায়িক শ্রম ভালো ঘুমের অন্যতম চাবিকাঠি।

৩. উদ্বেগমুক্ত মনস্তত্ত্ব:

গবেষণায় দেখা গেছে, আদিম সমাজে আধুনিক সভ্যতার মতো ভবিষ্যতের কাজের চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা ক্যারিয়ারের দুশ্চিন্তা থাকে না। তারা বর্তমান মুহূর্তে বাঁচে এবং তাদের সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সহযোগিতা জীবনকে সহজ রাখে, যা তাদের মনে কোনো ধরনের ঘুমের বা মানসিক চাপ তৈরি করে না।

৪. তাপমাত্রার প্রাকৃতিক পরিবর্তন:

আধুনিক যুগে আমরা এসসি বা এসি ছাড়া আরামদায়ক ঘরে ঘুমানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আদিবাসীরা প্রাকৃতিকভাবে পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ে। রাতের বেলা তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার সামঞ্জস্য তৈরি হওয়া ভালো ঘুমের সহায়ক।

৫. দুশ্চিন্তাহীন ঘুমের ধারণা:

আমাদের সমাজে ‘ইনসোমনিয়া’ বা অনিদ্রা একটি বড় সমস্যা, কারণ আমরা ঘুমাতে না পারলে তা নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন করি। কিন্তু আদিম সমাজের মানুষের কাছে ‘ঘুম না হওয়া’ বলে কোনো কৃত্রিম দুশ্চিন্তা বা জটিল মানসিক ধারণা নেই। শরীর যখন ক্লান্ত হয়, তারা ঘুমিয়ে পড়ে; এই সহজ মানসিকতাই তাদের অনিদ্রা থেকে মুক্ত রাখে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment