ইসলাম ডেস্ক
পার্থিব জীবনে ঈমান ও সৎকর্মের চূড়ান্ত প্রতিদান জান্নাত। প্রতিটি মুমিনের জীবনে পরম কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুসংবাদপ্রাপ্ত সেই জান্নাত লাভ করা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে দোয়া কেবল একটি প্রার্থনাই নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র ও অত্যন্ত সম্মানিত ইবাদত। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো কিছু নেই’ (ইবনে মাজাহ: ৩৮২৯)। নবী করিম (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই দোয়া-ই ইবাদত’ (তিরমিজি: ২৯৬৯)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতদের জন্য জান্নাত লাভের সহজ ও নিশ্চিত কিছু আমলের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পাপ ও অপরাধ মুক্ত থেকে পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টি অর্জনে বিশেষ ৫টি আমল নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার দোয়া
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি অন্তরের বিশ্বাস ও সন্তুষ্টির সঙ্গে এই দোয়া পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।
دُعَاء: رَضيتُ بالله رَبّاً ، وبالإسلامِ ديناً ، وبمحمَدٍ نَبِيًّا وَّرَسولاً
উচ্চারণ: রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাউঁ ওয়া বিল ইসলামী দ্বিনাউঁ ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যাঁও ওয়া রাসুলা।
অর্থ: ‘আমি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী ও রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।’ (মুসলিম: ১৮৮৪; আবু দাউদ: ১৫২৯)
২. জান্নাতে বৃক্ষ রোপণের দোয়া
প্রতিটি উচ্চারণে জান্নাতে নিজের জন্য সম্পদ তৈরির সহজ এক আমল এটি। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হবে।
دُعَاء: سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি। (তিরমিজি: ৩৪৬৪)
৩. ফরজ নামাজের পর ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ
ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলত অত্যন্ত অনুকরণীয়। আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার ও জান্নাতের মধ্যে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না। (তাবরানি: ৭৫৩২; সহিহুল জামে: ৬৪۶৪)
৪. সাইয়িদুল ইস্তেগফার পাঠ
ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো সাইয়িদুল ইস্তেগফার। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এই ইস্তেগফার পড়বে এবং সন্ধ্যা হওয়ার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে। একইভাবে রাতে পাঠ করে ভোর হওয়ার আগে মারা গেলেও সে জান্নাতি হবে। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)
دُعَاء: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه“ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু। আবু-উ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া ওয়া আবু-উ লাকা বিজাম্বি ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।
৫. অজুর পর কালেমা শাহাদাত ও বিশেষ দোয়া
অজু শেষে কালেমা শাহাদাতের পাশাপাশি বিশেষ একটি দোয়া পাঠে জান্নাতের সব কটি দরজা উন্মুক্ত হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু শেষে কালেমা শাহাদাত এবং ‘আল্লাহুম্মাজ আলনি মিনাত তাওয়াবিনা ওয়াজ আলনি মিনাল মুতাত্বহহিরিন’ পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের ৮টি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে ইচ্ছামতো যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। (তিরমিজি: ৫৫)
জান্নাত প্রাপ্তি এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ চাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে নিয়মিত দোয়া করা সুন্নাত। হাদিসে এসেছে, কোনো ব্যক্তি তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করলে জান্নাত নিজেই আল্লাহর কাছে আবেদন জানায়, ‘হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।’
মহান আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিদিনের জীবনে এই বিশেষ দোয়া ও আমলগুলো নিয়মিত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


