সংসদে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট: প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ

ডেইলি পূর্বাচল | ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেম ও হেডফোন বিভ্রাটের ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম-৭) মো. আনোয়ার হোসেনকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ। টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে। রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে প্রায় ৩০০০ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট, পশ্চিম আগারগাঁওয়ের ৬০ ফিট এলাকায় একটি চারতলা ভবন এবং বনশ্রী আমুলিয়া হাউজিংয়ে প্রায় ১০ কাঠার একটি প্লটের তথ্য উঠে এসেছে, যার সম্মিলিত বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।

গত ২ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয় উল্লেখ করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে সাউন্ড সিস্টেমে মারাত্মক ত্রুটি দেখা দেয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ সংসদ সদস্যরা হেডফোনে শব্দ না পাওয়া এবং মাইক্রোফোন বিভ্রাটের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে অধিবেশন মুলতবি করতে হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং নিম্নমানের সরঞ্জাম ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, অধিবেশন চলমান থাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে অধিবেশন শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের মাইক্রোফোন সরবরাহ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ার হোসেন গণপূর্তের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্য, যারা বদলি ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে থাকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের কারণেই অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত ১ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ঢাকার গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১২-এ বদলি করা হয়। ২ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অবৈধ সম্পদের উৎস উদঘাটন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

রিপোর্টটি করেছেন: সোহেল হাওলাদার, নির্বাহী সম্পাদক, ডেইলি পূর্বাচল

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 4   +   3   =